বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি

হাইমচরের এজিএম ও গ্রাজুয়েট ক্যারিয়ার ডিজাইন কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:২৬ পিএম
হাইমচরের এজিএম ও গ্রাজুয়েট ক্যারিয়ার ডিজাইন কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যয়নরত হাইমচর উপজেলার শিক্ষার্থীদের ছাত্র ও সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি হাইমচর এর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) -২০২৫ ও গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যারিয়ার ডিজাইন কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি নাজমুল আল হোসেনের ব্যবস্থাপনায় এবং সাধারন সম্পাদক সালেহ আহমেদের সঞ্চালনায় শুক্রবার ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন এর মেঘনা হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই অনুষ্ঠান।

বার্ষিক সাধারণ সভায় স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি হাইমচর এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেপজার সাবেক সদস্য, ইনভেস্টর সার্ভিসের চেয়ারম্যান ও সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা এজেডএম আজিজুর রহমান।

গ্রাজুয়েট ক্যারিয়ার ডিজাইন কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব ও স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি হাইমচর, এর উপদেষ্টা মোঃ মাহবুব-উল-আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সোনালী ব্যাংকের প্রাক্তন সিনিয়র অফিসার আশুতোষ দাস দেওয়ান।

Model Hospital

কনফারেন্সে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কর্পোরেট আস্কের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও নিয়াজ আহমেদ, ৩৬ বিসিএস ক্যাডার পরিসংখ্যান ১ম ও লক্ষীপুর জেলা উপ-পরিচালক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, এসএমসি ল অফিসার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি হাইমচর -এডভোকেট মোহাম্মদ নেওয়াজ শরীফ।

দিনব্যাপী প্রোগ্রামে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি হাইমচর এর শুভানুধ্যায়ী ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার আমিনুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য লোকমান হোসেন, সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান, সাহেব মো: সোহেল, বুলবুল ইসমাইল।

অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা সংগঠক হিসেবে সন্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে ৮ জন কার্যনির্বাহী সদস্যকে। তারা হলেন,নিশাত নাবিলা, শারমিন আক্তার, সোহাগ হোসেন, মেহেরুন্নেসা আকা, ইলিয়াস রেজা, ইমরান হোসাইন, জাফর আহমেদ ও রেদওয়ানুর রহমান।

দিনব্যাপী প্রোগ্রামে সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্যরা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যয়নরত হাইমচর উপজেলার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।