বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে গোরস্থান থেকে জীবিত উদ্ধার সেই নবজাতকের দাফন সম্পন্ন, নাম রাখা হয়েছিল মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:৫১ পিএম
চাঁদপুরে গোরস্থান থেকে জীবিত উদ্ধার সেই নবজাতকের দাফন সম্পন্ন, নাম রাখা হয়েছিল মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
চাঁদপুর পৌর কবরস্থানে কবর দেয়ার সময় নড়েচড়ে উঠা সেই নবজাতকের হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে লাখো মানুষের হৃদয়ে কাঁদানো শিশুটি রাত সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর শহরের ফেমাস হাসপাতালে এনআইসিওতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।
পরে শিশুটিকে উদ্ধার করা সেই গণমাধ্যম কর্মী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ডিএনএ টেস্টে করিয়ে শিশুটির জানাযার ব্যবস্থা করা হয়। রাত ২টা ৩০ মিনিটে চাঁদপুর বাস স্ট্যান্ড মসজিদের সামনে জানাযা শেষে সেই পৌর কবরস্থানে শিশুটিকে দাফন করা হয়।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি একটি কার্টনে করে নবজাতক শিশুটিকে চাঁদপুর পৌর গোরস্থানে দাফনের জন্য দিয়ে যায়। সেখানকার গোরখোদক শিশুটিকে দাফনের জন্য আজান দিয়ে জানাজার প্রস্তুতি নিলে কার্টুন খুলে দেখেন শি-শুটি নাড়াচড়া করছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক তিনি সেখানে উপস্থিত কয়েকজন গণমাধ্যমকে জানান। পরে গণমাধ্যমকর্মীরা নবজাতকে উদ্ধার করে চাঁদপুর ফেমাস হাসপাতালে নিয়ে এনআইসিইউতে ভর্তি করায়। এরপর স্থানীয় সংবাদকর্মিসহ মানবিক লোকজনের সহায়তায় শিশুটিকে বাঁচানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। অবশেষে সবাইকে কাঁদিয়ে রাত সাড়ে ৯টা শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।
চাঁদপুর ফেমাস হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শিশুটির জন্ম সম্ভবত রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) হয়েছে। ভর্তি করার সময় তার অক্সিজেন লেভেল কম ছিল। হাসপাতালে আনার পর শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৃথিবীর মারা গেছে।
এদিকে এই ঘটনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাঁদপুরসহ সারা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নবজাতকের দায়িত্ব নিতে চাঁদপুরসহ সারা দেশে প্রায় শতাধিক মানুষ গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করেন। ২৫ জন নারী এবং তাদের পরিবার হাসপাতালে শিশুটিকে দত্তক নিতে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি শিশুটিকে উদ্ধার এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করে মানবাধিক দৃষ্টান্ত দেখানো গণমাধ্যমকর্মীরা ব্যাপক প্রশংসিত হন।তবে কে বা কারা নবজাতকটিকে মৃত জেনে অথবা না জেনে কবর দিতে চেয়েছিলেন তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
শিশুটিকে উদ্ধার করে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মোসাদ্দেক আল আকিব ও আশিক বিন রহিম জানান, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি শিশুকে বাঁচানোর। হয়তো ব্যর্থ হয়েছি। তবে আমরা মানবিক দায়বোধ থেকেই সংবাদ প্রচারের আগে শিশুটির চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি। যে বা যারা শিশুটিকে মৃত ভেবে অথবা ইচ্ছা করে কবর দেয়ার জন্য গোরস্থানে পাঠিয়েছে, তাদের প্রতি আমাদের ঘৃণা রইলো। কিন্তু শিশুটিকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য চাঁদপুরের সাংবাদিক সমাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশাসনের ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টা আমাদের মুগ্ধ করেছে। যারা আমাদের এই মানবিক কাজে সহযোগিতা করেছেন, সাহস এবং প্রেরণা দিয়েছে, তাদের সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital