শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে ব্যবসায়ীদের সাথে জামায়াতের মতবিনিময় সভা

ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরে পেতে জামায়াতকে একবার সুযোগ দিন ; এমপি পদপ্রার্থী আবুল হোসাইন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:৫১ পিএম
ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরে পেতে জামায়াতকে একবার সুযোগ দিন ; এমপি পদপ্রার্থী আবুল হোসাইন

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা জামায়াতে ইসলামী শাখার উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে হাজীগঞ্জ বাজারের স্থানীয় একটি হোটেলে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় উপজেলা আমীর মোঃ কলিম উল্ল্যাহ্ ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের এমপি পদপ্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা আবুল হোসাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ব্যবসায়ীদের আস্থার ঠিকানা ও নিরাপদ আশ্রয়। দুর্নীতিমুক্ত ও কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জামায়াতকে একবার ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ দিয়ে পরীক্ষা করে দেখার আহ্বান জানাই। আমরা চাই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি।”

হাজীগঞ্জ পৌর আমীর মোহাম্মদ আবুল হাসানাত পাটওয়ারীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মোজাম্মেল হোসেন মজুমদার পরান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকী, পৌর নায়েবে আমীর মাওলানা মো. কবির হোসাইন, পৌর সেক্রেটারী মো. সফিকুর রহমান মজুমদার, উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা শরিফ হোসাইন, উপজেলা সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদিন, সাবেক উপজেলা আমীর ও তালিমুল কুরআন বিভাগের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মীর হোসেন, কেন্দ্রীয় ব্যবসায়ী নেতা আলহাজ্ব আবুল বাসার এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রধান।

Model Hospital

বক্তারা তাদের বক্তব্যে ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় ও ব্যবসায়বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে জামায়াতে ইসলামী সবসময় কাজ করে যাবে বলে আশ্বাস দেন। তারা ব্যবসায়ী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং দেশকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্ত করতে ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সভা শেষে অতিথিরা ব্যবসায়ীদের সাথে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম
ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

প্রয়াত সাবেক এমপি ও বরেণ্য সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, দেশের বরেণ্য সাংবাদিক, বিশিষ্ট কলাম লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান(৮২) আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (২৪শে অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বনানীর নিজ বাসভবনে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তিনি ওপাড়ে পাড়ি জমান।
মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী আবদুল হামিদ এবং মাতা আয়েশা খাতুন। তিনি ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৫ সালে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতক এবং ১৯৭১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও প্রগতিশীল সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বের সঙ্গে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ১৯৭০ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতায় তাঁর পেশাগত জীবনের সূচনা হয়। স্বাধীনতার পর ইত্তেফাকে পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক হিসেবে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার ও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে ইত্তেফাক থেকে অবসর নেওয়ার পর স্বাধীন কলামিস্ট হিসেবে দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক ভোরের কাগজ এবং দৈনিক জনকণ্ঠের জনপ্রিয় ‘চতুরঙ্গ’ পাতায় নিয়মিত কলাম লিখে জাতীয় পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে তিনি ১৯৮৫ সালে জাপানের টোকিও, ১৯৯১ সালে জার্মানির বার্লিন এবং যুক্তরাজ্যে উচ্চতর সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ অভিভাবক হিসেবে তিনি ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ মেয়াদে টানা দুবার বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। কর্মজীবনে তিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘সিটিজেন টিভি’র চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাংবাদিকতার পাঠ চুকিয়ে তিনি স্বক্রিয় রাজনীতিতেও সফল অবদান রাখেন। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট পর্যন্ত তিনি  জাতীয় সংসদে ফরিদগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, অসংখ্য সহকর্মী, গুণগ্রাহী এবং রাজনীতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের অজস্র শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
গুণী এই ব্যক্তিত্বের হঠাৎ প্রয়াণে ফরিদগঞ্জের সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।