রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে ঝুঁকি নিয়ে

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:০৩ পিএম
কচুয়ায় জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে ঝুঁকি নিয়ে

কচুয়ার ১৫২নং জরাজীর্ণ খিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

কচুয়ার বেশ ক’টি জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলেছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। সম্প্রতি জরিপকাজ চালিয়ে শনাক্ত করা হয়েছে ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। এসব ভবনের ছাদ, দেওয়াল ও বারেন্দার পিলারে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে ছাদ-দেয়ালের পলেস্তেরা।

পলেস্তেরা খসে পড়ায় আহত হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। তাছাড়া পলেস্তেরা খসে পড়া অংশে ভেসে উঠা রডে মরিচা ধরছে। অকেজো হচ্ছে এই রড। একটুখানি বৃষ্টি হলেই জপজপিয়ে পড়ে বৃষ্টির পানি। এ পানিতে বিনষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থীদের বই প্রস্তুক। ফ্লোর ভিজে সৃষ্টি হয় স্যাত-স্যাতে অবস্থা। দরজা জানালা গুলো ভাংচুর অবস্থা। যেকোন সময়ে ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস চলছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়ে সারাক্ষণই সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে।

দরিয়া হায়াতপুর সপ্রাবি, নোয়াগাঁও সপ্রাবি ও উত্তর উজানী সপ্রাবি প্রধান শিক্ষক যথাক্রমে খালেদা আক্তার, আব্দুল মোতালেব ও মমতাজ বেগম সহ বেশকটি সপ্রাবির প্রধান শিক্ষকরা জানান, জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সব সময়ে দুশ্চিন্তায় থাকি।

Model Hospital

কচুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহীনা আক্তার জানান, জরাজীর্ণ ভবনগুলোতে ক্লাস চালিয়ে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮টির অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। এ ৩৮টির তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

জরাজীর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে- ৬নং শুয়ারুল, ৭নং বারৈয়ারা, ৮নং ভাটিছিনাইয়া, ১৪নং বিতারা, ১৮নং শিলাস্থান, ২০নং উত্তর শিবপুর, ২৫নং সফিবাদ, ৪২নং বরুচর, ৪৪নং উত্তর উজানী, ৪৫নং ঘাগড়া, ৪৭নং কোমরকাশা, ৪৯নং করইশ, ৫০নং হোসেনপুর, ৫২নং দোঘর, ৫৫নং দেবীপুর, ৫৯নং কোয়া-চাঁদপুর, ৬৬নং চাঁদপুর, ৭৪নং নোয়াগাঁও, ৭৯নং হারিচাইল, ৮৫নং নূরপুর, ৮৯নং নাওপুরা, ৯০নং খাজুরিয়া লক্ষীপুর, ৯৭নং উত্তর আশ্রাফপুর, ৯৮নং আশ্রাফপুর এন ই-২, ৯৯নং চাঙ্গিনী, ১০৪নং বুধুন্ডা, ১০৯ নং চাংপুর, ১১১নং নিন্দপুর, ১২২নং পশ্চিম আলিয়ারা, ১২৯নং জলা তেতৈয়া, ১৩১নং কোমরকাশা, ১৩৩নং কড়ইয়া, ১৪৩ নং মধ্য সাদিপুরা, ১৪৪নং নলুয়া দৌলতপুর, ১৪৫ নং দরিয়াহায়াতপুর, ১৫২নং খিলা, ১৫৬নং দক্ষিণ আশ্রাফপুর ও ১৫৯ নং রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।