শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ফেসবুকে প্রেম ও ফেসবুকেই স্ট্যাটাস দিয়ে জেরিনের আ ত্ম হ ত্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৩১ পিএম
চাঁদপুরে ফেসবুকে প্রেম ও ফেসবুকেই স্ট্যাটাস দিয়ে জেরিনের আ ত্ম হ ত্যা

চাঁদপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ে প্রেম ও পরে বিয়ে হয় মেহেদী হাসান রিফাত (২৪) ও জেরিন আক্তার জেরি (২২)। একপর্যায়ে স্বামীর মানসিক নির্যাতন সহিতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন স্ত্রী জেরিন। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর সদর উপজেলার ২নং আশিকাটি ইউনিয়নে। রবিবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানান পরিবারের লোকজন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আশিকাটি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড দক্ষিণ পাইকাস্তা গাজী বাড়ির মোঃ জয়নাল গাজীর বড় মেয়ে জেরিন আক্তারের সাথে ২০২৩ সালের দিকে ফেসবুকে পরিচয় হয় চাঁদপুর পৌর শহরের প্রফেসর পাড়ার বাসিন্দা পারভেজ হাসানের ছেলে মেহেদী হাসান রিফাতের।

ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে দুজনের সম্মতিক্রমে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখে কোর্ট এভিডেভিড এর মাধ্যমে বিয়ে হয় তাদের। কিন্তু জেরিনকে সামাজিকভাবে রিফাতের বাড়িতে উঠিয়ে না নেয়ায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় বসে বিষয়টি মিমাংসা করে প্রায় সাত লক্ষ টাকা কাবিনে পূণরায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়।

কিন্তু বিয়ে হওয়ার পরেও জেরিনের স্বামী মেহেদী হাসান রিফাতকে বার বার চাপ দিলেও তাকে সামাজিকভাবে উঠিয়ে নেয়না রিফাতের পরিবার। ঘটনারদিন রাতে স্বামী রিফাতের সাথে দীর্ঘক্ষণ মোবাইলে কথা বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে যেকোন সময় ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ফেসবুকে দেয়া জেরিনের শেষ স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “তার মৃত্যুর জন্য দায়ী স্বামী, শশুর ও শাশুড়ী। তারা আমাকে বাঁচতে দিলো না। আমার সুন্দর জীবনের সাথে আমার পরিবারের মানসম্মানও শেষ হয়ে গেল। প্রতিনিয়ত মানুষের কথা সহ্য করেছেন। সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বাবার প্রতি মাপ চেয়ে তিনি বলেন- আব্বু আমাকে মাপ করে দিও”। রাত ২-৩টার দিকে পরিবারের লোকজন টের পেয়ে জেরিনের লাশ উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই আওলাদ ঘটনাস্থলে এসে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

Model Hospital

এদিকে জেরিনের পরিবার বলছেন, বিয়ের পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী মেহেদী হাসান রিফাত চৌধুরী বিগত ২ বছর যাবৎ বিভিন্ন সময় জেরিনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। এমনকি তার যৌতুক হিসাবে টাকা দাবি করে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান রিফাতের বাবা ও মা। যৌতুকের টাকা না দিতে পারলে জেরিন আক্তার জেরি কে তার স্বামীর বাড়িতে নিবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এই বিষয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে এর আগে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এবং উক্ত আত্মহত্যার ঘটনায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এস আই আওলাদ হোসেন বলেন, আত্মহত্যা করা মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital