খাবারে দুর্গন্ধ, বমি ও মাথা ঘোরা, প্রশাসনের নজরদারির দাবি স্থানীয়দের
হাজীগঞ্জে থ্রি স্টার কিচেনের পচা মাংসের কাচ্চি খেয়ে ৮ জন অসুস্থ
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় সদ্য উদ্বোধন হওয়া একটি রেস্টুরেন্টের খাশির কাচ্চি খেয়ে আটজন অসুস্থ হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ‘থ্রি স্টার কিচেন’ নামের ওই রেস্টুরেন্টে পচা মাংস ব্যবহার করে কাচ্চি প্রস্তুত করা হয়েছিল।

ঘটনাটি ঘটে গত সপ্তাহে। হাজীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিসের একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে থ্রি স্টার কিচেন থেকে ৩০ প্যাকেট কাচ্চি সরবরাহ নেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন কর্মকর্তা বমি, মাথা ঘোরা ও পেটব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এলজিইডির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কাচ্চির মাংস থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ আসছিল। অনেকটা পচা গন্ধের মতো। খাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বমি শুরু হয়।”

অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃপক্ষ রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি স্বীকার করে ৭টি বিরানির প্যাকেট ফেরত নেয় এবং সম্পূর্ণ টাকার ফেরত দেয় বলে জানা গেছে।

থ্রি স্টার কিচেনের ইরা খান জানান, “আমরা এই অর্ডারটা নিতে চাইনি, কিন্তু অফিসের পক্ষ থেকে অনুরোধে নিতে হয়। মাংস বাজার থেকে কিনে আনা হয়েছিল। হয়তো গরমে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তারপরও আমরা টাকার পুরোটা ফেরত দিয়েছি।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রেস্টুরেন্টটির খাবারের মান উদ্বোধনের পর থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। এলাকাবাসীর ভাষায়, বাহারি সাজসজ্জা থাকলেও খাবারে মানের ঘাটতি চোখে পড়ছে।
থ্রি স্টার কিচেনের গ্রাহক তানিয়া আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দাম থ্রি স্টারের, কিন্তু খাবারের মান থার্ড ক্লাস!”
অন্যদিকে, ক্রেতা রাকিবুল হাসান বলেন, “পরিবারের পাঁচজনকে নিয়ে খেতে গিয়েছিলাম। কিন্তু খাবারের মান এত খারাপ ছিল যে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।”
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “খাদ্যে পচা উপকরণ ব্যবহার করা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি। এমন ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চাঁদপুর কার্যালয় থেকেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, “লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত তদন্তে নামব। প্রয়োজন হলে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





