শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে লোকসংস্কৃতি চর্চা ও গবেষণায় করণীয় নিয়ে মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৩১ পিএম
চাঁদপুরে লোকসংস্কৃতি চর্চা ও গবেষণায় করণীয় নিয়ে মতবিনিময় সভা

চাঁদপুরে লোকসংস্কৃতি চর্চা ও গবেষণায় করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরীফ মাহমুদ চিশতী।

‘চাঁদপুরের লোকসংস্কৃতি চর্চা ও গবেষণায় করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শনিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৫) বিকেল ৫টায় সাহিত্য একাডেমির মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভায় লোকসংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা লেখক ও গবেষকরা বক্তব্য রাখেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সাহিত্য একাডেমির সহ-সভাপতি আবদুল্লাহিল কাফী।
সঞ্চালনা করেন একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) মুহাম্মদ ফরিদ হাসান।

সভায় লোকসংস্কৃতি গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বিষয়ে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরীফ মাহমুদ চিশতী, সাবেক শিক্ষক ও গবেষক কামরুজ্জামান শিকদার, সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (সাহিত্য ও প্রকাশনা) মাইনুল ইসলাম মানিক, পরিচালক (গ্রন্থাগার, সেমিনার ও শিশুসাহিত্য) আশিক বিন রহিম, নির্বাহী সদস্য নুরুন্নাহার মুন্নি, সুমন কুমার দত্ত, চাঁদপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ম. নূরে আলম পাটওয়ারী, প্রবীণ লেখক আবদুল গণি, লেখক এইচএম জাকির প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন একাডেমির নির্বাহী সদস্য উজ্জ্বল হোসাইন।

বক্তারা বলেন, চাঁদপুরের লোকসংস্কৃতি এই জেলার ঐতিহ্য, জীবনধারা ও সমাজচেতনার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এই মূল্যবান সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সময়ের দাবি। তাঁরা বলেন, লোকসংস্কৃতি শুধু উৎসব বা গানে নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস ও জ্ঞানের সমন্বিত প্রকাশ। তাই এ বিষয়ে ধারাবাহিক মাঠগবেষণা, দলিল সংরক্ষণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যসূচিভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

সভায় উপস্থিত গবেষক ও সাহিত্যপ্রেমীরা চাঁদপুরের লোকসংস্কৃতি নিয়ে এমন আয়োজন ধারাবাহিকভাবে করার প্রস্তাব করেন।

Model Hospital

সাহিত্য একাডেমি সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে চাঁদপুরের লোকসংস্কৃতির ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একটি গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটির কাজ চলমান রয়েছে।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।