রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় সাবেক শিক্ষক নেতাদের বিরুদ্ধে ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৩৫ পিএম
কচুয়ায় সাবেক শিক্ষক নেতাদের বিরুদ্ধে ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কচুয়া উপজেলা শাখার সাবেক শিক্ষক নেতাদের বিরুদ্ধে ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। সেচ্ছাচারিতা ও টাকা আত্মসাতের বিষয় নিয়ে বর্তমান উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু মুসা, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সহ-সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তর সম্পাদক উজ্জ্বল কৃষ্ণ মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আকবর হোসেনসহ বিভিন্ন পদে নেতৃবৃন্দ দায়িত্বরত থাকাকালীন পারস্পরিক যোগসাজসে সমিতির অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম করেছে।

বর্তমানে সমিতির নামে কচুয়া বাজারে ২ টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃহৎ আকারের ২টি মার্কেট বিদ্যমান যার আয় ব্যয় সমিতির নিয়ন্ত্রণে হতো। এর মধ্যে দক্ষিন বাজারের ডাক বাংলো সংলগ্ন মার্কেটে প্রায় ৫১ শতক জায়গায় ৩০ টি দোকানঘর এবং মধ্য বাজারে ২,৮৭ শতক জায়গায় ২ টি দোকান আছে। বিগত সময়ের দোকান ভাড়ার অগ্রীম জামানত ও মাসিক আদায়কৃত ভাড়ার কোন হিসাব তারা সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা করেনি এবং মার্কেটের আয় ব্যয়ের হিসাব শিক্ষকদেরকে কখনোই অবগত করেনি।

বিগত সময়ে অবসরপ্রাপ্ত প্রায় ৫৩৯ জন শিক্ষকের মধ্যে তাদের পছন্দের মাত্র ৩৯ জন শিক্ষককে বিদায় দিয়েছেন। প্রায় ৫০০ জন শিক্ষককে এখনও বিদায় দেয়া হয়নি। প্রত্যাশিত শিক্ষকদের বিদায় দিতে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন।

Model Hospital

অগ্রীম জামানত প্রায় ৩৭ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা (যা দোকানদারদের ফেরতযোগ্য) গ্রহন করলেও সেই টাকাও বর্তমানে সমিতির ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত নেই। বিগত সময়ে দোকানগুলোর তেমন কোন সংস্কার/উন্নয়ন না করায় প্রায় প্রতিটি দোকানের চালা থেকে পানি পরে। তাদের সময়ে ভূমি উন্নয়ন কর ও পৌর কর বাবদ প্রায় ৫ লক্ষ টাকা বকেয়া রাখে গেছে। আপাত দৃষ্টিতে উক্ত কমিটি বিগত সময়ে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে সাধারন শিক্ষকগণের দাবীর প্রেক্ষিতে বর্তমান নির্বাচিত কমিটি বহুবার বিগত সময়ের আয়- ব্যয় হিসাব দাখিলের জন্য পূর্ববর্তী কমিটিকে অনুরোধ করেন। তারা বিষয়টি স্বেচ্ছায় এড়িয়ে যান। যা কচুয়ার প্রায় ১২০০ শিক্ষকের সাথে স্বেচ্ছাচারিতার শামিল। এতে শিক্ষকগনের মাবে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

উপজেলা বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার আমলে উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দরা বিগত সরকারের ক্ষমতা প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ শিক্ষকদেরকে হয়রানি ও স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন।

এছাড়াও শিক্ষক বদলি, দপ্তরি নিয়োগ, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, বিদ্যালয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ দিবে বলে অনেকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলামের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকা ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী বলেন,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সমিতির সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দকে বলা হয়েছে নিজেদের মধ্যে বসে বিষয়টি সমাধান হওয়ার জন্য। যদি তারা নিজেরা সমাধান না করতে পারে, তাহলে পরবর্তীতে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।