বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর ইচলীঘাট দীর্ঘ সেতু নির্মাণ স্থান পরির্দশণে জেলা প্রশাসক মোহসীন উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৫১ পিএম
চাঁদপুর ইচলীঘাট দীর্ঘ সেতু নির্মাণ স্থান পরির্দশণে জেলা প্রশাসক মোহসীন উদ্দিন
চাঁদপুরের সাধারণ মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি ইচলী ফেরিঘাটে একটি ব্রিজ নির্মাণের। কারণ এতে এলাকার যাতায়াত সহজ হবে এবং শহরের প্রধান সড়কের যানজট কমবে। এই ব্রিজটি তৈরি হলে ইচলী, ঢালীরঘাট, বালিয়া, বাগাদী ও আশপাশের হাজার হাজার মানুষের, বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষের শহরে যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে।
অবশেষে চাঁদপুর ইচলী ২৬০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণে ত্বরান্বিত হচ্ছে। এতে করে স্থানীয় অর্থনীতিতে আসবে নতুন গতি, উন্নত হবে নতুন যোগাযোগের স্বপ্নের যাত্রা। গত মঙ্গবাল (২৮ অক্টোবর ২০২৫ সেতু নির্মাণে স্থান পরিদর্শন করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড:সলিম উল্লাহ সেলিমসহ চাঁদপুর সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাগন।
চাঁদপুর-নানুপুর-চান্দ্রা-কামতাবাজার রামগঞ্জ সড়ক (জেড-১৪১২)-এর চেইমেজ ০+৭৯৫০-এ ডাকাতিয়া নদীর উপর ২৬০ মিটার দীর্ঘ পি.সি গার্ডার সেতু নির্মাণ। বর্তমানে বিআরটিসি-বিইউইটি এর হাইড্রোলজিকাল স্টাডি সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে হাজারো যাত্রী ও ব্যবসায়ীর জন্য নতুন দরজা খুলছে।
স্টাডি ও ডিজাইনে ইটউঞ-এর হাইডতেরা-মরফোলজিকাল সার্ভে (১২/০৮/২০২২), ঐউঈ-জঅঝ মডেলিং; ইওডঞঅ-এর ক্লাস ক্লিয়ারেন্স (ভার্টিক্যাল ১২.২০ মিটার, হরাইজন্টাল ৭৬.২২ মিটার) প্রক্রিয়ায়। চ্যালেঞ্জ ও সমাধান করা হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইন (চাঁদপুর পাওয়ার জেনারেশন, দেশ এনার্জি, ইচউই) ক্লিয়ারেন্স নেওয়া হয়েছে, নদী সুরক্ষার জন্য তীর প্রশিক্ষণ কাজ। পূর্বের চাঁদপুর (সতু (২৫৪ মিটার, ৬-স্প্যান) ও নতুন বাজার-পুরান বাজার সেতু (২৬০ মিটার) থেকে শিক্ষা নিয়ে ডিজাইন।
প্রসঙ্গত, চাঁদপুরের মানুষের স্মৃতি আর জেলার শতবর্ষী ঐতিহ্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকা এক নাম, ইচলী ফেরিঘাট। দেশের বৃহত্তম নদীবন্দর সদরঘাটের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এই ঘাট। সময়ের বিবর্তন আর অবকাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে সেই এক সময়ের কোলাহলমুখর ইচলী ফেরিঘাট আজ প্রায় নিস্তব্ধ, বিলীন।
একসময় রামগঞ্জ, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীসহ দক্ষিন পূর্বাঞ্চলের আশপাশের কয়েক জেলার হাজার হাজার মানুষ এই ঘাট দিয়েই লঞ্চে চড়ে ঢাকায় যেত। সদরঘাট থেকে ফিরে এসেও পা রাখতো এই ঘাটে। দিনরাত চলত মানুষের ভিড়, লঞ্চের হুইসেল, নৌকার মাঝিদের ডাকাডাকি আর টোলের ব্যস্ততা।
এই ফেরিঘাটের বুকেই গড়ে উঠেছিল অসংখ্য মানুষের জীবিকার উৎস, খেয়া নৌকা, দোকান, খাবারের হোটেল আর টোল আদায়ের ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে এ ঘাট ছিল এক জীবন্ত নদীজীবন ও ব্যবসার কেন্দ্র। ২০০৫ সালে চাঁদপুর-রায়পুর সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই কমতে থাকে ফেরিঘাটের কোলাহল, মানুষের সমাগম। বন্ধ হয়ে যায় ফেরি চলাচল। তবু লঞ্চঘাটের কারণে তখনো টিকে ছিলমানুষের যাতায়াত, আশপাশের মানুষ তখনো সংক্ষিপ্ত নদীপথে শহরে যেত-আসত।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চ চলাচলও কমে আসে, এখন আর কোনো লঞ্চ ইচলী ঘাটে ভিড়ে না। ফলে ইচলী ফেরিঘাট হারিয়েছে তার মূল প্রাণশক্তি, আর হয়ে গেছে প্রায় জনশূন্য এক স্থান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক সময় যেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষের ভিড়, যানবাহনের দীর্ঘ লাইন আর লঞ্চের হুইসেলে সমাগম ছিলো ইচলী ফেরিঘাট, সেই জায়গায় এখন নেমে এসেছে শুধুই নিরবতা। খেয়া নৌকার সংখ্যা কমে এখন দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭/৮ টিতে। তাও দিনে হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ এ নৌকা পারাপার করে থাকে।
এখন কেবল বাগাদী, চৌরাস্তা, ইচলী, ঢালীর ঘাট ও আশপাশের গ্রামের কিছু মানুষ এ ঘাট ব্যবহার করেন, তাও খুবই সীমিত আকারে।
ইচলী ফেরিঘাটটিতে ব্রিজ নির্মাণ হলে চাঁদপুরের ইচলী, ঢালীরঘাট, বালিয়া, বাগীদী, বাগড়া বাজার সহ দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের হাজারো মানুষের যাতায়াত অনেকটা সহজ হয়ে যেত। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের শহরে যাতায়াতের ভোগান্তি কমত। এ ছাড়া শহরের প্রধান সড়কের যানজটও অনেকটা হ্রাস পেত।
ইচলী ফেরিঘাটটিতে ব্রিজ নির্মাণ হলে চাঁদপুরের ইচলী, ঢালীরঘাট, বালিয়া, বাগীদী, বাগড়া বাজার সহ দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের হাজারো মানুষের যাতায়াত অনেকটা সহজ হয়ে যেত। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের শহরে যাতায়াতের ভোগান্তি কমত। এ ছাড়া শহরের প্রধান সড়কের যানজটও অনেকটা হ্রাস পেত।
চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ যেমন প্রসারিত হতো, তেমনি এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা হতো আরও গতিময় ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়ন হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসত এক ভিন্ন পরিবর্তন।
ছাত্রদল নেতা বারেক দিয়া বলেন, এই ঘাট শুধু এক টুকরো জমি নয়, এটি চাঁদপুরের ইতিহাসের অংশ, মানুষের স্মৃতি আর জীবনের সাথে জড়িত এক গল্প।
যদি অন্তত ইচলী লঞ্চঘাটটি আবারো চালু করা যেত, এখানে মানুষ আসত, দোকানগুলো বাঁচত, মাঝিদের সংসারে হাসি ফিরত।

মোটরসাইকেলে চালক-আরোহী দুজনেরই হেলমেট বাধ্যতামূলক, কঠোর বার্তা চাঁদপুরের ডিসির

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৯ পিএম
মোটরসাইকেলে চালক-আরোহী দুজনেরই হেলমেট বাধ্যতামূলক, কঠোর বার্তা চাঁদপুরের ডিসির

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ চাঁদপুর সার্কেলের যৌথ আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষর রোডশো ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৮অক্টোবর (বুধবার) সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
তিনি বলেন, আপনারা যারা মোটর সাইকেল ব্যবহার করেন অবশ্যই হেলমেট ব্যবহার করবেন। চালক এবং আরোহী উভয়কেই হেলমেট পরিধান করে মোটর সাইকেল চালাতে হবে। গতির চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। গতি বাড়িয়ে মোটর সাইকেল চালানোর মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
তিনি বলেন, সড়ক নিরাপদ রাখতে  সচেতনতা ও নিয়মানুবর্তিতা মানা  প্রয়োজন৷ ট্রাফিক আইন মানা একান্ত প্রয়োজন। প্রতিনিয়ত সড়কে যে দুর্ঘটনা ঘটছে, তা কেবল কয়েকটি জীবনের অবসান ঘটায় না, বরং একটি পুরো পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। বয়স্ক যাত্রীদের সাথে তরুন যাত্রীরা ভালো আচরন করতে হবে। আমাদের মাঝে মানবিকতা ও মনুষ্যত্ববোধকে জাগ্রত করতে। মালিক, ড্রাইভার শ্রমিক সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সড়ক নিরাপদ রাখতে হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা, চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: খাইরুল কবির, বিআরটিএ চাঁদপুর সার্কেল এর সহকারি পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) আবদুল্লাহ আল মামুন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান, চাঁদপুর চেম্বার অব কর্মাসের সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, চাঁদপুর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর প্রবীর দাস, বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, নিরাপদ সড়ক চাই চাঁদপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন রাসেল, সহ-সভাপতি ডি এম ফয়সাল, চাঁদপুর জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমিন।
বিআরটিএর উচ্চমান সহকারি  এমদাদুল হক শামীমের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য বিআরটিএ চাঁদপুর সার্কেল এর সহকারি পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) আবদুল্লাহ আল মামুন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টজন৷ দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টা ৪৫মিনিটে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে রোডশো অনুষ্ঠিত হয়। শেষে অভিজ্ঞ ড্রাইভারদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান সহ অন্যান্যরা৷