শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ভস্ম থেকে পুনর্জন্ম! মোহনপুর পর্যটনকেন্দ্রে ফিরছে প্রাণ, মেঘনার পাড়ে আবারও ভিড় পর্যটকের

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:০৭ পিএম
ভস্ম থেকে পুনর্জন্ম! মোহনপুর পর্যটনকেন্দ্রে ফিরছে প্রাণ, মেঘনার পাড়ে আবারও ভিড় পর্যটকের

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মেঘনার পাড়ে অবস্থিত মোহনপুর পর্যটন লিমিটেড—একসময় দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রগুলোর একটি। শান্ত নদীর ঢেউ, বাতাসে ভেসে আসা পাখির ডাক আর নদীপাড়ের স্নিগ্ধ পরিবেশ যেন প্রতিদিনই নতুন করে ডেকে আনতো পর্যটকদের। পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনকে নিয়ে মানুষ ছুটে আসতো এখানে প্রশান্তির খোঁজে।

২০২০ সালে প্রায় ৬০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় মোহনপুর পর্যটনকেন্দ্রের। কয়েক বছরের মধ্যেই এটি হয়ে ওঠে পূর্ণাঙ্গ বিনোদন অভয়ারণ্য—নদীভ্রমণ, থিম পার্ক, কটেজ, দ্য সিপ ইন ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টসহ এক ছাদের নিচে সব আয়োজন।

কিন্তু সেই স্বপ্নভূমি তছনছ হয়ে যায় ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারির ভোরে। একদল দুষ্কৃতিকারী হামলা চালিয়ে মুহূর্তেই ধ্বংস করে দেয় কোটি টাকার অবকাঠামো। পরের মাসে, ১৮ ফেব্রুয়ারি, আবারও হামলা হয়। আতঙ্কে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নেন, প্রাণহীন হয়ে পড়ে একদা মুখর মোহনপুর।

Model Hospital

তবু হাল ছাড়েননি উদ্যোক্তারা। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেই শুরু হয় নতুন লড়াই—জৌলুস ফিরে পাওয়ার সংগ্রাম। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন দেশে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করে, তখনই নতুন করে সংস্কারের কাজ হাতে নেয় মোহনপুর কর্তৃপক্ষ।

এখন সেই হারানো সৌন্দর্য ধীরে ধীরে ফিরে পাচ্ছে কেন্দ্রটি। যুক্ত হয়েছে স্পিডবোট ও নৌকা ভ্রমণের আয়োজন, শিশুদের জন্য থিম পার্ক, মিনি চিড়িয়াখানা, ফুলের বাগান, সৌদি খেজুর গাছের বাগান এবং নদীপাড়ে পাথরের রাস্তা ধরে হাঁটার চমৎকার সুযোগ।

স্থানীয় মমিনুল ইসলাম বলেন, “একটা সময় সারাদেশ থেকে মানুষ এখানে আসতো। কিন্তু রাজনৈতিক সহিংসতায় সব ধ্বংস হয়ে যায়। এখন আবার সংস্কার চলছে, চালু হয়েছে ঠিকই, তবে আগের মতো কোলাহল এখনো ফিরেনি।”

পর্যটক আফসানা আক্তার, যিনি তৃতীয়বার এসেছেন মোহনপুরে, বলেন, “আগে পরিবার নিয়ে দারুণ সময় কাটতো এখানে। এখন কিছু জায়গা ভাঙাচোরা হলেও শুনেছি আবার চালু হয়েছে। সেই খবর শুনেই চলে এলাম। পুরোনো দিনের মতো না হলেও এখানকার নদীর বাতাস এখনো আগের মতোই মায়াময়।”

মোহনপুর পর্যটন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. মিজানুর রহমান বলেন, “এটা আমাদের একদল স্বপ্নবাজ মানুষের পরিশ্রমের ফসল। ২০২৪ সালের হামলায় ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছিল। তবে এখন ক্ষতির কথা না ভেবে আমরা নতুন করে শুরু করেছি। ধীরে ধীরে মোহনপুরকে তার পুরোনো রূপে ফিরিয়ে আনবো।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রায় ৮-১০ জন কর্মচারী দিনরাত পরিশ্রম করছেন কেন্দ্রটি সচল রাখতে। বড় পরিসরে সংস্কারের জন্য দরকার অর্থনৈতিক সহায়তা। “কেউ যদি পাশে আসে, তবে মোহনপুর আবারও ফিরবে তার আগের রূপে,”—যোগ করেন তিনি।

মেঘনার পাড়ে মোহনপুর আবারও জেগে উঠছে। ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে নবজীবনের গল্প লিখছে একদল স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তা— পর্যটনের নতুন অধ্যায়ে যার নাম “মোহনপুরের পুনর্জাগরণ”।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।