রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব উত্তরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ধানের শীষের প্রার্থীর বিশাল সমাবেশ

ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে : ড. জালাল উদ্দিন

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৩৭ পিএম
ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে : ড. জালাল উদ্দিন
মতলব উত্তর উপজেলায় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ধানের শীষের প্রার্থীর বিশাল সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীর সমবেশে সম্ভাব্য ৪ প্রার্থী একই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়েছেন।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ছেংগারচর  সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন,প বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চাঁদপুর-২ নির্বাচনী আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ।
ড. জালাল উদ্দিন বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দেশকে এক দমনমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনাই এখন সময়ের দাবি। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
ড. জালাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন,  আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যেখানে মানুষ মুক্তভাবে কথা বলতে পারবে, ন্যায়বিচার পাবে এবং রাষ্ট্র নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, জেন–জি প্রজন্মের ভাবনা মূল্যায়ন করতেই হবে। দেশের ভবিষ্যৎ ও সৎ আকাঙ্ক্ষার জন্য নতুন প্রজন্মের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্রকামী বিভিন্ন দল অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা, গুম ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে রাজপথে আন্দোলন চালিয়েছে। সেই আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে এসে ছাত্র-জনতা, সকল শ্রেণি–পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলায় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ধানের শীষের প্রার্থীর বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-২ আসনের‌ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. মোঃ জালাল উদ্দিন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখনো দেশি–বিদেশি ও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা নানা ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের এই অর্জনের ফল কোনোভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না।
এসময় ড. জালাল উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি আপনাদের সন্তান। দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা থাকবেই কিন্তু আমরা সবাই দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে একসঙ্গে ধানের শীষের জন্য কাজ করবো। আমার ওপর রাগ থাকতে পারে যা খুবই স্বাভাবিক। কেননা, আমি মানুষ মানুষ হিসেবে আমার ভুল নিশ্চয়ই আছে । কিন্তু সকলের কাছে আমি হাতজোড় করে বলি দল বা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতীকের ওপর আমরা নিশ্চয়ই কেউ রাগ দেখাবো না। আপনারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সকলে ধানের শীষে ভোট দিন।
তিনি আরো বলেন, দলের শৃঙ্খলা কাকে বলে ছেঙ্গারচরের এই বিশাল সমাবেশে এসে দেখে যান। এখানে অধ্যাপক ডা.  শামীম আহমেদ, ব্যারিস্টার ওবায়েদুর রহমান টিপু, আজহারুল হক মুকুল তারাও কিন্তু দলের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীক চেয়েছিলেন। তারা প্রতীক পাননি ঠিকই কিন্তু তারা ধানের শীষের প্রচারণায় ঠিকই ছুটে এসেছেন। ছেংগারচরের এই বিশাল সমাবেশে তাঁরা ধানের শীষের পক্ষে এসে ঠিকই ভোট চেয়েছেন।
ছেংগারচর পৌর বিএনপি’র সভাপতি মোঃ নান্নু মিয়া প্রধানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান ও উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ ফিরোজ আহমেদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি আজহারুল হক মুকুল, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলম।
এ সময় প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, ৭ই নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তি ঐক্যবদ্ধ থেকে শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।