রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

রূপসায় ৩ হাজার সনাতনীদের একটি সার্বজনীন মন্দির: তবুও মিলেনি সরকারি অনুদান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৩ পিএম
রূপসায় ৩ হাজার সনাতনীদের একটি সার্বজনীন মন্দির: তবুও মিলেনি সরকারি অনুদান
প্রায় ৩ হাজার সনাতন ধর্মালম্বীদের পূর্জার্চনা করার মাত্র একটি সার্বজনীন মন্দির হওয়া সত্ত্বেও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের রূপসায় কেউই সেখানে এখন পর্যন্ত সরকারি দান অনুদান পৌঁছাতে এগিয়ে আসেনি। তবুও মন্দিরটিতে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী হতে শুরু করে রাস পূর্ণিমা সবই হচ্ছে সনাতন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে।
৮ নভেম্বর শনিবার বিকালে রাস পূর্ণিমা উৎসবের শেষ দিনে মন্দিরটি পরিচালনায় আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে এসব কথা জানান মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ।
আলোচনায় থাকা মন্দিরটি হচ্ছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির। এটি ১৫নং রূপসা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কুরিপাড়ায় অবস্থিত। মন্দিরটি পরিচালনায় একটি পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। তারাই নিজেরা সামর্থ্যানুযায়ী মন্দিরটির সংস্কারসহ পূজার্চনায় যাবতীয় অর্থ নানাভাবে সংগ্রহ করে ব্যায় করেন।
শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শান্তি চন্দ্র শীল বলেন, এই মন্দিরটি নিবন্ধিত (নিবন্ধন নং-১১০৩৭/চাঁদপুর/ফরি/০৯) এবং এটি প্রায় ৪ যুগ পূর্বে দেবোত্তর সম্পত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী হতে শুরু করে ধর্মীয় পূজার্চনা হয়। রাস পূর্ণিমায় ৮ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হয়। এ সময়ে মন্দিরে নামযজ্ঞ ও মেলা হয় এবং প্রতিদিনই দিনে রাতে আড়াই থেকে ৩ হাজার সনাতনীরা এখানে প্রসাদ পেয়ে থাকে। মন্দিরটির সরকারি তালিকাভুক্ত হলেও অদ্যাবধি সরকারি, বেসরকারি বা হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট হতে কোন দান অনুদান না পাওয়ায় আমরা চরম হতাশ।
শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ চন্দ্র কুরি বলেন, ধর্মীয় পূজার্চনায় মন্দিরটিতে দূর দূরান্ত থেকে ভক্তসমাগম হয়। যা ৮/১০ হাজার সনাতনীর কম হবেনা। আমরা মন্দিরটির আধুনিক ভবন প্রায় দেড় যুগ পূর্বে করেছি। এখন ৪ তলা বিশিষ্ট মন্দিরের ভবন করার ইচ্ছে রয়েছে। কিন্তু তাতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তার জন্য সরকারি দান অনুদান একান্তভাবে প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধি, সমাজ সেবক, দানশীল ও মানবতাবাদীরাসহ প্রশাসন এই মন্দিরটি টিকিয়ে রাখতে এবং আধুনিকায়ন রূপ দিয়ে পরিচালনায় আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছি।
শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ ঝন্টু চন্দ্র কুরি বলেন, আমরা মন্দিরের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরাসহ চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টুনী দেয়ারও উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু এতে সবাই যদি আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে তাহলে কাজ করতে সহজ হয়। এই অঞ্চলে পারিবারিক পরিচালিত মন্দির থাকলেও দেবোত্তর সম্পত্তিতে সার্বজনীন মন্দির শুধুমাত্র এটিই। তাই ইচ্ছে আছে এখানে গুরু কূল চালু করার। যেখানে গুরুর অধীনে থেকে সনাতনী ধর্মীয় কৃষ্টি কালচারের শিক্ষা নিয়ে আগামীর সনাতনী ছেলে মেয়েরা বেড়ে উঠবে এবং সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।
এসময় শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা বিরেন্দ্র চন্দ্র কুরি, উপদেষ্টা পরিক্ষীত চন্দ্র সাহাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।