শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পলাশের উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন রেদওয়ান খান বোরহান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৪:৫৪ পিএম
চাঁদপুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পলাশের উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন রেদওয়ান খান বোরহান

চাঁদপুর শহরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পলাশের সাথে কথা ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলছেন আলহাজ্ব মোঃ রেদওয়ান খান বোরহানের। পাশে অসুস্থ বাবুলের পরিবারকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

গাজী মোঃ মহসিন : মেঘনার ভাঙ্গনে ভিটে মাটি হারানো এক অসহায় পরিবারের জন্মগ্রহণ করেছেন পলাশ। কোন আশ্রয় না পেয়ে বর্তমানে চাঁদপুর শহরের ঘোষ পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় থাকছেন তিনি। বাদাম বিক্রেতা বাবার এই হতভাগা ছেলে জন্মগতভাবেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। রয়েছে তার মেধার ভান্ডার। বাম চোখে সমস্যা নিয়ে পলাশ জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে করেছেন ভালো ফলাফল। কিন্তু সদ্য ঘোষিত গত ১৩ ফেব্রুয়ারী এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পেলেও তা সুস্পষ্ট দেখতে পাননি পলাশ।
এ নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন স্থানীয় সংবাদকর্মী ও লেখক আশিক বিন রহিম।
রাতে আপলোড করা সংবাদকর্মীর এমন মানবিক পোস্ট টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী মৎসজীবী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী মৎসজীবী লীগের সভাপতি, ভয়েস বাংলা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সিটি নিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের নির্বাচনী এলাকার গরীব দুঃখী মানুষের বন্ধু ও জনপ্রিয় ব্যাক্তিত্ব আলহাজ্ব রেদওয়ান খান বোরহানের।
তিনি উক্ত সংবাদকর্মীর সাথে শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ৮ টায় যোগাযোগ করে সংবাদকর্মীর মাধ্যমে ঐ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পলাশ ও তার পরিবারের সাথে ভিডিও কলে কথা বলেন। সেই সাথে রেদওয়ান খান বোরহান অসহায় এ পরিবারটির খোঁজ খবর নিয়ে পলাশের চোখের উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি পলাশের পড়ালেখার খরচ বহন করার দায়িত্ব নেন।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পলাশ জানান, মেঘনার ভাঙনে বসতভিটে হারিরিয়ে তার পরিবার চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার ঘোষপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। পিতা শ্যামল দে পেশায় একজন বাদাম বিক্রেতা। জন্ম থেকে বাম চোখে সমস্যা থাকালেও সে নিজে নিজেই পরিক্ষায় খাতায় লিখে পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি পাশ করেছেন। চিকিৎসার অভাবে বর্তমানে ডান চোখে দৃষ্টিও ক্ষয়িষ্ণু হতে চলেছে।
এবছর চাঁদপুর পুরানবাজার ডিগ্রী কলেজ থেকে শ্রুতি লেখকের মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের রেজাল্ট হাতে এলে দও ক্ষয়িষ্ণু দৃষ্টির কারনে নিজের সেই কাঙ্খিত ফলাফল স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে না।
পলাশের মা বলেন, আমার ছেলের চোখের চিকিৎসার জন্য রেদওয়ান খান বোরহান এগিয়ে এসেছেন। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে ওনার জন্য অনেক দোয়া করছি। আমি জেনেছি তিনি অসহায় মানুষের পাশে থাকেন। আজকে সেটাই প্রমাণ হলো। পলাশের ভাই শিমুল জানান, আমারা পলাশকে সার্ধ্যমত চিকিৎসা করিয়েছি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার চোখের দৃষ্টি ফিরে পেতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। আমার ভাইয়ের চিকিৎসা সাহায্যার্থে এগিয়ে আসায় আমরা আলহাজ্ব রেদওয়ান খান বোরহান সাহেবকে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
এছাড়াও তিনি দুপুরে চাঁদপুর শহরের ১১ নং ওয়ার্ড মধ্য গুনরাজদীর বাসিন্দা মোস্তান বাড়ির অসুস্থ বাবুল খানের স্ত্রী পেয়ারা বেগম হাতে রেদওয়া খান বোরহানের ব্যক্তিগত সহকারি আরিফ হোসেন পাটোয়ারী আর্থিক অনুদান তুলে দেন। অসুস্থ বাবুল খান দীর্ঘদিন ধরে ব্রেন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের আক্রান্ত।
এদিকে চাঁদপুর সদর-হাইমচরের এইচএসসি পাশ করা অসহায় দশ মেধাবী শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি ও অনার্সে ভর্তি হওয়ার সম্পূর্ণ খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভয়েস বাংলা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং সিটি নিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব রেদওয়ান খান বোরহান জানান, আমি ফেসবুকের মাধ্যমে অসহায় পলাশের বিষয়টি জানতে পারি। পরে সকালেই সংবাদকর্মী আশিক বিন রহিমের মাধ্যমে পলাশের পরিবার সাথে যোগাযোগ করেছি। আমি আমার ব্যক্তিগত অর্থে পলাশের উন্নত চিকিৎসার জন্য যাবতীয় খরচ বহন করবো বলে জানিয়েছি। পাশাপাশি পলাশের পড়ালেখার খরচ আমি বহন করব।
প্রসঙ্গত : আলহাজ্ব রেদওয়ান খান বোরহান চাঁদপুর সদর-হাইমচর নির্বাচনী আসনের একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি বহুকাল ধরে চাঁদপুরের অসংখ্য মানবিক কাজের দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারীর এই দুর্যোগ মুহুর্তে চাঁদপুরের মানুষের পাশে থেকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সম্প্রতি হাইমচরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক অসহায় মাদ্রাসা ছাত্রের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত হন। ১৯ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিনি ১০জন গরীব শিক্ষার্থীর ভর্তির ব্যয় বহন করেন। এছাড়াও চাঁদপুর শহরের ১১নং ওয়ার্ড মধ্য গুনরাজদীতে অসুস্থ বাবুল খানের চিকিৎসায় অর্থ সহযোগিতা প্রদান করেন। শনিবার দুপুরে অসুস্থ বাবুল খানের স্ত্রী পেয়ারা বেগম হাতে রেদওয়া খান বোরহানের পক্ষে তার ব্যক্তিগত সহকারি আরিফ হোসেন পাটোয়ারী অনুদান তুলে দেন। অসুস্থ বাবুল খান দীর্ঘদিন ধরে ব্রেন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। আলহাজ্ব রেদওয়ান খান বোরহানের এই মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি দল-মত নির্বিশেষে জেলা সকল শ্রেণীপেশার মানুষের কাছে প্রশংসিত হচ্ছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’