বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ থানার ওসি মহিউদ্দিন ফারুক কে পিবিআইতে বদলি, দায়িত্ব হস্তান্তর করলেন রাতে

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৯ এম
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মহিউদ্দিন ফারুক কে পিবিআইতে বদলি, দায়িত্ব হস্তান্তর করলেন রাতে

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুককে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্তের) –এর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। বদলির আদেশ পাওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর হাজীগঞ্জ থানায় যোগ দেন মহিউদ্দিন ফারুক। প্রায় ১৪ মাসের দায়িত্ব পালনকালে তিনি থানার কর্মপরিবেশে শৃঙ্খলা আনা, সেবাকে জনমুখী করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের সমস্যায় দ্রুত সাড়া দেওয়া, ভুক্তভোগীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে তিনি এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত হতে শুরু করেন একজন ‘সহজপ্রাপ্য পুলিশ কর্মকর্তা’ হিসেবে।

দায়িত্বের শুরু থেকে মাদক ও চুরি-ডাকাতি দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছিলেন ওসি মহিউদ্দিন ফারুক। তাঁর মেয়াদকালে বেশ কিছু আলোচিত মামলার তদন্ত অগ্রগতি পায় এবং কয়েকটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রকেও গ্রেপ্তার করা হয়। থানা–কেন্দ্রিক সেবা ব্যবস্থাকে সহজ করার জন্য তিনি প্রতিদিনের কার্যক্রমে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন, অভিযোগ গ্রহণে আলাদা সহায়তা ডেস্ক এবং নারী ও শিশু–সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ নির্দেশনা দেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও কমিউনিটি পুলিশিং নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় সভা করে তিনি এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্ক ও সমন্বিত তৎপরতা বজায় রাখেন। এ ছাড়া কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা কমাতে সচেতনতামূলক বেশ কয়েকটি সভা-সমাবেশও আয়োজন করেন তিনি।

Model Hospital

বদলির খবরে থানার কয়েকজন কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা জানান, ওসি ফারুক দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করেছেন। তাঁর বদলি ‘রুটিন মুভমেন্ট’ হলেও অনেকের কাছেই এটি কিছুটা অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব বুঝে নিয়ে শিগগিরই তিনি ঢাকা পিবিআইয়ে যোগ দেবেন। বিদায় মুহূর্তে সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “হাজীগঞ্জে দায়িত্ব পালন আমার জন্য ছিল চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি আত্মতৃপ্তির জায়গা। স্থানীয়দের সহযোগিতা আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করেছে।”

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।