রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহারাস্তিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসীর মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৫০ পিএম
শাহারাস্তিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসীর মানববন্ধন

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী সুলতানিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগকে “মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” দাবি করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রথমে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এবং পরে মাদ্রাসা সংলগ্ন প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাত ৯টায় যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক মালেককে শাহরাস্তি থানা পুলিশ আটক করে। এ ঘটনার পর মাদ্রাসায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, “মালেক স্যার অত্যন্ত ভালো মানুষ, সৎ ও নীতিবান শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো।”

তারা আরও দাবি করেন, অভিযোগকারী শিক্ষার্থী জাফরিন ও আকলিমা আক্তারের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, “যেই মেয়েটি অভিযোগ করেছে, সে আগে কখনো পড়ালেখায় ভালো ছিল না এবং তার বাইরের ছেলেদের সঙ্গে চলাফেরা ছিল।”

Model Hospital

একাধিক এলাকাবাসীও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের বাইরের ছেলেদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি শিক্ষক মালেক কয়েকবার দেখেছেন এবং তিনি তাদের সাবধান করেছিলেন। তাদের দাবি, এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষক মালেককে জড়িয়ে “মিথ্যা অভিযোগ” দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীরা আরও জানান, মাদ্রাসা প্রতিদিন সকাল ৮টায় খোলে এবং শিক্ষকরা আসেন ৯টায়। কিন্তু অভিযোগকারী ছাত্রী জাফরিন নাকি সকাল ৭টায় মাদ্রাসায় এসে বাইরে ঘোরাফেরা করতেন এবং বাইরের ছেলেদের সঙ্গে হাঁটতে দেখা যেত।

তারা আরও সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, মাদ্রাসার সরকারি ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে কিছু চাঁদাবাজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং নবাগত ম্যানেজিং কমিটিতে “অযোগ্য লোক ঢোকানোর” তৎপরতার জের ধরেই ঘটনাটি ঘটতে পারে।

মাদ্রাসার সিনিয়র সহকারী শিক্ষক খোরশেদ আলম, সরোয়ার ও রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা মালেক স্যারকে যতদিন দেখেছি, তিনি অত্যন্ত ভালো চরিত্রের মানুষ। তার কোনো খারাপ রেকর্ড নেই। আমরা নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।”

মাদ্রাসার সহকারী সুপার মাওলানা আমিনুল হক আশরাফি জানান, “ঘটনার পর আমরা রবিবার বসে সমাধান দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তার আগেই পরিকল্পিতভাবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদি তার বিরুদ্ধে কোনো সত্য তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে আমরাই আইনগত ব্যবস্থা নেব। আপাতত আমরা তার দ্রুত মুক্তি চাই।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা জানান, “আগামী দুই দিনের মধ্যে শিক্ষক মালেককে মুক্তি না দিলে আমরা কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবো।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।