রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে চাঁদা দাবি, মারধর ও হয়রানি অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৪৬ পিএম
কচুয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে চাঁদা দাবি, মারধর ও হয়রানি অভিযোগ

‎‎কচুয়ায় প্রবাসী স্ত্রীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি, মারধর ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা আশ্রাফপুর ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্ৰামে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ওই গ্ৰামের কালাগাজী প্রধানিয়া বাড়ির প্রবাসী কামাল উদ্দিনের স্ত্রী ভুক্তভোগী মোছাঃ নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

‎অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, ওই গ্রামের গাইন বাড়ির মৃত সফি উল্লাহ ছেলে নাসির উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিন এবং মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে খোকন ও শাহজাহানে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং কু-প্রস্তাব দেয়  বাদী নাছিমা বেগমকে।

চাঁদা না দেওয়ায় ও কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১৭ অক্টোবর দিনের বেলা বাদীর বসত বাড়িতে অজ্ঞাত ৩-৪ জন ব্যাক্তি  প্রবেশ করে  গাছের ফলফলাদি পেরে নিয়ে যায়।

এতে বাধা প্রদান করলে বিবাদীগণ বাদীর উপর চড়া হয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে লাঠিসোটা দিয়ে  মারধর ও  শরীরের কাপড়  টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করেন। ডাক চিৎকার শুনে বাদীর মেয়ে উদ্ধার করতে আসলে তাকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। বাদী ও তার মেয়ের সাথে থাকা স্বর্নের কানের দুল, গলার চেইন খুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে এই ঘটনায় কচুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে বাদী নাছিমা বেগম। মামলা নং- ১৯, তারিখঃ ২০/১০/২০২৫ খ্রি.।

Model Hospital

কচুয়া থানায় মামলা করায় বিবাদীগণ বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে হত্যা ও গুম করবে বলে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছে। গত ৮ ডিসেম্বর সকালে বাদী কালিয়াপাড়া থেকে ডাক্তার দেখিয়ে আসার সময় বিবাদীগণ  রাস্তা প্রতিরোধ করে ধর্ষন করার হুমকি দেয় বাদী প্রবাসী স্ত্রী নাছিমা বেগমকে।

‎বাদী প্রবাসী স্ত্রী নাছিমা বেগম জানান, বিবাদীগণ অত্যাচারে আমি সন্তানদেরকে নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে আমার বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে প্রতিনিয়ত তারা হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে একাধিকবার আদালতে মামলা, কচুয়া থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে অভিযোগ দিলেও  কোন সমাধান পাচ্ছিনা।  আমি রাষ্ট্রের কাছে জীবনে নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচার দাবি করছি।

‎বিবাদীগনদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য মোবাইলে ফোন করলে মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।