বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর-আমিরাবাদ সড়কে শতাধিক বাঁক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:০৭ এম
চাঁদপুর-আমিরাবাদ সড়কে শতাধিক বাঁক

দাউদকান্দি উপজেলার আমিরাবাদ বাসট্যান্ড হতে চাঁদপুর সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমিরাবাদ থেকে কচুয়া উপজেলা ২৯, হাজীগঞ্জ ৪২ ও চাঁদপুর সদর ৬৩ কি.মি. দূরত্বে অবস্থিত। কম সময়ে কুমিল্লা ও ঢাকা পৌঁছাতে এ সড়কটি ব্যবহার করছে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, চাঁদপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ,কচুয়া, মতলব দক্ষিণ ও দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দারা।

তারা বলছেন,এসব বাঁকে আড়াআড়িভাবে সড়কের বিপরীত পাশ থেকে গাড়ি আসলে তা বোঝা যায় না। শীতের ঘন কুয়াশার কারণে সড়কটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে যাত্রীবাহী বাস,প্রাইভেট কার, ট্রাক, পিকআপ, পণ্যবাহী যানবাহন, অটোরিকশা, সিএনজি, ভ্যানগাড়ি, মোটরবাইকসহ প্রায় ১০-১৫ হাজার বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। এত ব্যস্ততম ও জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে রয়েছে শতাধিক বাঁক। আর এসব বাঁকে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৬৩ কি.মি. এ সড়কটির আমিরাবাদ থেকে কচুয়া উপজেলার সাচার বাজার পর্যন্ত ১৭ কি.মি. এলাকায় রয়েছে প্রায় শতাধিক বাঁক। তার মধ্যে আমিরাবাদে পাঁচটি, ইটাখোলায় ১২টি, শায়েস্তানগর ব্রিজ থেকে ৩০ মিটারের মধ্যে তিনটি, দোঘোরে একটি, মলয় স্টেশনে একটি শ্রীচাইল মোহাম্মদপুরে পাঁচটি, বটতলায় একটি মোস্তাকের মোড়ে একটি,পাঠানতুলীতে চারটি, নতুন বাজারে দুটি, পিপিয়াকান্দিতে আটটি, পিপিয়া রায়পুরে পাঁচটি, নারিকেলতলায় চারটি, মালাখালায় ১৩টি, বাড়ীপাড়ায় ১১টি, বায়েকমোড়ে ১১টি, সাচার বাজারে চারটি ও কলাকোপায় তিনটিসহ মোট শতাধিক বাঁক রয়েছে।

Model Hospital

দাউদকান্দির মালাখালা বাজারের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন,‘ বাজারে পাঁচ সেকেন্ডের মতো সময়ও দাঁড়ানো যায় না। চোখের পলক ফেলতে সময় লাগে গাড়ি আসতে সময় লাগে না। এখানে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

কচুয়া টু ঢাকা সুরমা সুপার বাসের চালক রমজান বলেন, তিন বছর ধরে গাড়ি চালাই। এই সড়কে বাঁকের কারণে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে।

পিপাইয়াকান্দি গ্রামের মফিজুল ইসলাম বলেন, চল্লিশ বছর ধরে এই সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাই। ঘন ঘন মোড়ের কারণে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা হয়। বাঁকগুলো সোজা করার দাবি জানাচ্ছি।

আমিরাবাদ গ্রামের ট্রাকচালক মুরশিদ মিয়া জানান, মালবোঝাই ট্রাক নিয়ে যখন টানিংয়ে যাই। তখন অন্যগাড়ি আসলে ক্রসিং কষ্টকর। যানজট লেগে যায়। অতিরিক্ত বাঁকের কারণে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কচুয়া উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ নান্নু জানান, আমিরাবাদ কচুয়া আঞ্চলিক সড়কের বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ সরলীকরণ (বাঁক) রয়েছে। বাঁকগুলো সোজা না করায় প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে। জনস্বার্থে বাঁকগুলো দ্রুত সংস্কার করা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, এ সড়কের বাঁকের বিষয়ে আমরা অবগত আছি।

বাঁকগুলো সোজা করতে হলে নানা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে এবং সময়ের প্রয়োজন। জমি অধিগ্রহণ, পরিকল্পনা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা প্রেরণ। তারপর টেন্ডার হলে ঠিকাদারের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

তবে, সহসায় এ কাজ শুরু হবে বলে মনে হচ্ছে না। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সোজা করার ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করছি।

কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ
কচুয়ায় একটি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একপেশে প্রতিবেদন দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী মোছা. আছমা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ কচুয়া আমলি আদালতে ২৫৩/২০২৫ নম্বর মামলা হিসেবে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন আছমা। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডি চাঁদপুরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম।
বাদীর অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ওই কর্মকর্তা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি টাকা দেওয়ার জন্য তাকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই না করেই একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ আইজিপির দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেন বাদী। এতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং অন্য কোনো নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বিবাদী আসমা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমার সন্তানের হত্যাকারীর বিচারের জন্য মামলা দায়ের করলে, সরজমিনে তদন্ত জন্য আদালত নির্দেশ দেয়। পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম মামলা তদন্ত করতে আসলে আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দেওয়ার পরও বিবাদীর কাছ থেকে আরো অধিক সুবিধা নিয়ে  একতরফা তদন্ত রিপোর্ট দেয়। আমি ন্যায় বিচারের জন্য আদালত, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।