শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:১৬ পিএম
চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরে সাহিত্য, সৌহার্দ্য ও বাঙালি আত্মপরিচয়ের এক অনন্য মিলনমেলা হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে “চাঁদপুর সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫”। সাহিত্য মঞ্চ ও বিশ্ববাঙালি সংসদ–বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন মিলনায়তনে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সকল বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। আবহমান বাঙালির আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করে এই নীরবতা মিলনায়তনজুড়ে সৃষ্টি করে এক গভীর আবেগঘন পরিবেশ।
এরপর সমাজ বিনির্মাণে লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অবদান শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সাহিত্য ও সমাজকর্মে অবদান রাখায় স্বীকৃতিস্বরূপ চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত একাধিক গুণী সাহিত্যিক, গবেষক ও সমাজকর্মীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি ও  সাংবাদিক হাসনাইন সাজ্জাদী। উদ্বোধন করেন কবি ও গীতিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল। প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন তেজগাঁও কলেজ অধ্যাপক কবি ও কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা বেগম।

বিশ্ববাঙালি সংসদ বাংলাদেশের সভাপতি, কবি ও সাংবাদিক  লোকমান হোসেন পলার সভাপতিত্বে এবং চাঁদপুর সাহিত্য মঞ্চের সভাপতি আশিক বিন রহিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাহিত্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক লেখক ও অনুবাদক সাদ আল-আমিন।

Model Hospital

সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য রাখেন কবি মাহাবুবা রহমান লাকী, চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-সভাপতি আবদুল্লাহিল কাফী, কসবা প্রেসক্লাব, সভাপতি আবুল খাযের স্বপন, কবি ও বাচিক কণ্ঠশিল্পী শামীমা আফরোজ হ্যাপী, সমাজসেবক ও লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠাতা ফজলুল হক টিপু, চাঁদপুর সাহিত্য মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি, কবি ও অনুবাদক মাইনুল ইসলাম মানিক, চাঁদপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি ম. নূরে আলম পাটওয়ারী, কবিও লেখক মামুন চৌধুরী, কবি ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শরীফ খান দীপ, কবি ও অনুবাদক নূরুল হক, পাক্ষিক চাঁদনগর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সাবিত্রী রাণী ঘোষ, সামাজিক সংগঠন আপনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রোটারিয়ান ডাঃ রাশেদা আক্তার, কবি মো, রবিউল ইসলাম খান।

সাহিত্য সন্ধ্যায় কবিতা পাঠ করেন শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল ফারুক, কবি ও লেখক মুখলেছুর রহমান ভূঁইয়া, মনিরুজ্জামান বাবলু, কবির হোসেন মিজি, মুহাম্মদ হানিফ, জাহিদ নয়ন, আরিফুল ইসলাম শান্ত, ইমরান শাকির ইমরু, ইয়াসিন দেওয়ান প্রমুখ। সবশেষে প্রান্তিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম কাজী রাসেলের নেতৃত্বে সংগঠনের শিল্পীরা লোকজ গান পরিবেশন করেন। এই পর্বে সভাপতিত্ব করেন সাহিত্য মঞ্চের সাবেক সভাপতি, কবি ও অনুবাদক মাইনুল ইসলাম মানিক।

আলোচনা সভায় বক্তারা সাহিত্য ও সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক, প্রজন্মান্তরের সাহিত্য বিনিময় এবং বিশ্বব্যাপী বাঙালি সংস্কৃতির বিস্তারে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, সাহিত্য সমাজের দর্পণ—এখানেই মানুষের আনন্দ-বেদনা, স্বপ্ন ও সংগ্রামের ভাষ্য সবচেয়ে নিখুঁতভাবে ধরা পড়ে।

বক্তারা আরো বলেন, ভাষা ও সাহিত্যের বন্ধনই বিশ্ববাঙালিকে এক সুতোয় গেঁথে রাখে। এই মৈত্রী সম্মাননা কেবল একটি স্মারক নয়; এটি বাঙালির চেতনাগত ঐক্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি।

সমগ্র অনুষ্ঠানজুড়ে কবিতা, কথামালা ও আন্তরিক সৌহার্দ্যের আবহে চাঁদপুর সাহিত্য সন্ধ্যা পরিণত হয় এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক আসরে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও বাঙালির সাহিত্য ও মৈত্রীর বন্ধনকে দৃঢ় করতে এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।