বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে হাসপাতাল ও রেস্টুরেন্টসহ সাত প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা জরিমানা

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
হাজীগঞ্জে হাসপাতাল ও রেস্টুরেন্টসহ সাত প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা জরিমানা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে হাসপাতাল, রেস্টুরেন্ট ও ফার্মেসিসহ সাতটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে হাজীগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন হোটেল, হাসপাতাল ও ফার্মেসিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ এবং সেবার নামে প্রতারণার অভিযোগে এসব জরিমানা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, নোংরা পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও পচা-বাসী খাবার সংরক্ষণের দায়ে হাজী সুইটসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই ধরনের অপরাধে নবাবী হোটেলকে ১৫ হাজার এবং রিজিক হোটেলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

Model Hospital

এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ সস ব্যবহারের দায়ে খাওয়া দাওয়া হোটেলকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মিডওয়ে ফার্মেসিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণের দায়ে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ডেঙ্গু পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগে হাজীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালকে ১০ হাজার টাকা এবং ভুয়া ‘ডক্টর’ পদবি ব্যবহার করে প্রতারণার দায়ে দেশ ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী জনস্বার্থে এ ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করেছে এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম না করার অঙ্গীকার করেছে।

অভিযানে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. জসিম উদ্দিন এবং যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট ও পাম্পলেট বিতরণ করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের বাজার মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

হাজীগঞ্জে অপরাধী আটকের নামে প্রবীণকে মারধরের ঘটনায় হামলাকারীদের শনাক্তের নির্দেশ আদালতের

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৪ পিএম
হাজীগঞ্জে অপরাধী আটকের নামে প্রবীণকে মারধরের ঘটনায় হামলাকারীদের শনাক্তের নির্দেশ আদালতের

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে অপরাধী আটকের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিস্তারিত ঠিকানা সংগ্রহ এবং সাক্ষীদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস মুজাহিদুর রহমান।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বলাখাল বাজারে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে ‘ইয়াবা কারবারি’ আখ্যা দিয়ে মারধরের একটি ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, একটি নিউজ পোর্টালের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, বলাখাল বাজারের একটি মুদিদোকানে থাকা এক প্রবীণ ব্যক্তিকে কয়েকজন তরুণ ইয়াবা কারবারের অভিযোগে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করছেন। ভিডিওতে এক তরুণের হাতে ইয়াবাসদৃশ বস্তু দেখা যায়। পরে ওই বস্তু প্রদর্শন করে মুঠোফোনে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানোর দৃশ্যও রয়েছে।

ভিডিওতে থাকা কথোপকথনের ভিত্তিতে ওই প্রবীণ ব্যক্তিকে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর বলাখাল ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নিজাম কাজী বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না বলেও আদেশে বলা হয়েছে।

Model Hospital

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি বা আটক করার ক্ষমতা ব্যক্তিগত নাগরিকের নেই। ভিডিও পর্যালোচনায় কয়েকজন তরুণ ওই প্রবীণ ব্যক্তির দোকানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেছেন বলেও প্রতীয়মান হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় অপরাধের বিষয়টি বিবেচনায় এসেছে।

আদেশে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তিকে অপরাধের সন্দেহে বেআইনি জনতার মাধ্যমে আটক করে মারধর করা ‘মব কালচারের’ গুরুতর উদাহরণ। এ ধরনের ঘটনায় নাগরিকের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ও জড়িত।

উচ্ছৃঙ্খল তরুণ ও কিশোরগ্যাংয়ের বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইন প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আদালতের আদেশে। আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে অনুপ্রবেশকারী ও হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিস্তারিত ঠিকানা সংগ্রহ এবং সাক্ষীদের তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হাজীগঞ্জ সার্কেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সময়সীমার মধ্যে ওই ঘটনায় কিশোরগ্যাংয়ের হাতে আটক প্রবীণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথিত মাদক উদ্ধারের অভিযোগে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা আদালতকে জানাতে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের এ নির্দেশের পর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।