রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে চিংড়ি প্রতীকের গণসংযোগ ও পথসভায়

ফরিদগঞ্জের মানুষের সুখে–দুঃখে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই : এম এ হান্নান

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৫ পিএম
ফরিদগঞ্জের মানুষের সুখে–দুঃখে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই : এম এ হান্নান

রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখছেন চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব এম এ হান্নান।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে চিংড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব এম এ হান্নান রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল দিন ব্যাপী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “ফরিদগঞ্জবাসীর প্রতি আমার আন্তরিক আবেদন—একবারের জন্য হলেও চিংড়ি প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন।
আমি বিশ্বাস করি, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি ফরিদগঞ্জের মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে থাকতে চাই এবং এই জনপদের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।
অতীতে দলমত নির্বিশেষে ফরিদগঞ্জের উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও মানবিক সহায়তায় যেভাবে কাজ করেছি, আগামীতেও সেই ধারাবাহিকতা আরও বিস্তৃত পরিসরে এগিয়ে নিতে চাই। আমার কাছে রাজনীতি মানে মানুষের পাশে থাকা, মানুষের কথা বলা এবং মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করা।
তিনি আরও বলেন, আপনারা আমাকে নির্বাচিত করলে ফরিদগঞ্জবাসীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি উন্নত, আধুনিক ও সমৃদ্ধ ফরিদগঞ্জ গড়ে তোলাই হবে আমার লক্ষ্য। আমি রাজনীতি করি মানুষের সেবা করার জন্য—ব্যক্তিগত লাভ বা ব্যবসা করার জন্য নয়। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার একমাত্র শক্তি।”
এদিন তিনি নিজ সমর্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গৃদকালিন্দিয়া, সাহেব গঞ্জ, বর্ডার বাজার, নলগোড়া, মান্দারখিল, কাউনিয়াসহ ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও পথসভা করেন।
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন, বিএনপি নেতা সফিউল আলম মুকুল পাটওয়ারী, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আমানত গাজী, বিএনপি নেতা জাকির হোসেন গাজী, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মাসুদ খান, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন শিপন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি ইমাম হোসেন পাটওয়ারী, সাধারন সম্পাদক আমিন মিজি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহাগ পাটওয়ারীসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ঐক্যবদ্ধভাবে চিংড়ি প্রতীকে ভোট দিয়ে আলহাজ্ব এম এ হান্নানকে বিজয়ী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।