রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৭ পিএম
চাঁদপুরে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুর শহর শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় চাঁদপুর শহরের বাইতুল আমিন চত্বর থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালীবাড়ি বাইতুল আমিন চত্বরে এসে শেষ হয়।

র‍্যালি শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁদপুর শহর সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম, সাবেক শহর সভাপতি মো. জুবায়ের হুসাইন, সাইফুল ইসলাম সবুজ খান, সুলতান মাহমুদ, সাবেক জেলা সভাপতি আকরাম হোসাইন এবং সাবেক শহর সেক্রেটারি আব্দুল হাই লাভলু।

বক্তারা বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা নির্যাতন, নিপীড়ন ও জুলুমের শিকার হয়েছে। দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পরও সংগঠনটিকে ‘গুপ্ত সংগঠন’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। তারা দাবি করেন, ইসলামী ছাত্রশিবির কখনোই গুপ্ত সংগঠন ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।

Model Hospital

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ইসলামী আদর্শে অনুপ্রাণিত একদল তরুণ ছাত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের যাত্রা শুরু হয়।

এ সময় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সভাপতি, সকল শহীদ, জুলাইয়ের শহীদ, শরিফ ওসমান বিন হাদি এবং গুম হওয়া নেতাকর্মীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বক্তারা বলেন, তারা একটি দাসত্বমুক্ত ও স্বনির্ভরশীল বাংলাদেশ দেখতে চান। দেশের এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী তরুণ উল্লেখ করে তারা বলেন, তরুণদের সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ বদলে যাবে। তারা ইনসাফভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও যুববান্ধব রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সমাবেশ থেকে দুর্নীতি, হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বক্তারা।

সমাবেশে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চাঁদপুর পৌর ও শহর শাখার নেতাকর্মীসহ সহস্রাধিক কর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন চাঁদপুর শহর শাখার সেক্রেটারি নাজমুস সাকলাইন।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।