রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

‘নির্বাচনী পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা চলছে’ : ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৮ পিএম
‘নির্বাচনী পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা চলছে’ : ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদ

সংসদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন মোঃ হারুনুর রশিদ।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী সহিংসতা, নাশকতা ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ।
তিনি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নানের অনুসারীদের একটি অংশ এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নির্বাচনী পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদের পরিচালনা সংসদ সম্মেলন শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, তিনি বলেন  গত ৩ নভেম্বর ২০২৫ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর থেকেই ফরিদগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন চলাচলে বাধা, বিলবোর্ডে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালালেও একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। বিএনপি প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু ব্যক্তি অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে ধানের শীষের সমর্থকদের প্রচারণাকালে হামলার অভিযোগ তুলে বলা হয়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিছিলে আক্রমণ করা হয় এবং এতে কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একইসঙ্গে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের আর্থিক প্রলোভন ও চাকরির আশ্বাস দিয়ে দলত্যাগে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কম্বল বিতরণ, ভোট কেনার চেষ্টা এবং বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষ প্রতীকের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে। রূপসা বাজার ও খাজুরিয়া বাজার এলাকায় দোকানপাট, সিএনজি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা বলেন, অতীতে লায়ন মো. হারুনুর রশিদ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো কটূক্তি করা হয়নি। বরং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে তারা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে ফরিদগঞ্জবাসীকে মিথ্যাচার ও সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খল রাজনীতিতে বিশ্বাসী। জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের মন্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা প্রকাশ করা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি উপদেষ্টা এডভোকেট দুলাল মিয়া পাটওয়ারী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান দুলাল, মহসিন মোল্লা, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টিপুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।