রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে সকল প্রার্থীর অঙ্গীকার, আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
ফরিদগঞ্জে সকল প্রার্থীর অঙ্গীকার, আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সাম্প্রতিক নির্বাচনী সহিংসতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকল প্রার্থীকে নিয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে যেন কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় ফরিদগঞ্জ আসনের আটজন প্রার্থী অংশ নেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. এরশাদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকুর চাকমা, ফরিদগঞ্জ ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ফারুক জিম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.আর.এম. জাহিদ হাসান এবং ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন।

সভা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার উপজেলার ৬ নম্বর গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে স্বতন্ত্র (চিংড়ি) প্রতীক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৫০ জন আহত হন। সংঘর্ষের পর বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেয়।

Model Hospital

সভায় উপস্থিত প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ, স্বতন্ত্র চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এম.এ. হান্নান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মকবুল আহমাদ, নাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদ আলম, মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মালেক বুলবুল এবং ঘুড়ি প্রতীকের প্রার্থী জাকির হোসেনসহ অন্যান্যরা।

সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সকল প্রার্থীকে নিয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনোভাবেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। সাম্প্রতিক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সভায় উপস্থিত সকল প্রার্থী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাত এড়িয়ে চলার আশ্বাস দিয়েছেন।

গতকালকের ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছি প্রার্থীরা। যেই অপরাধি হয় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি করেছেন।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।