রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলার অভিযোগে মামলা, আসামি ৫ জন

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৩ পিএম
ফরিদগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলার অভিযোগে মামলা, আসামি ৫ জন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী স্বতন্ত্র প্রার্থী (চিংড়ি প্রতীক) এম. এ. হান্নানের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. এ. হান্নান সমর্থিত নেতাকর্মীরা উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে অংশ নেন। এ সময় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. এ. হান্নানসহ অন্তত ১৫-২০ জন আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওইদিন গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় খাজুরিয়া এলাকার কালু মেম্বার(৫৫), ইসমাইল (৫০), মো. সোহেল (২৮), মো. রাসেল মিজি (২৭) ও রাইসুল আখন (২২)-এর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, খাজুরিয়া এলাকায় সংঘটিত হামলার ঘটনায় মঞ্জিল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চলমান নির্বাচনে কেউ সহিংসতায় জড়ালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।