রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

নারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিশেষ ব্যবস্থা, ৮ কেন্দ্রে ২০টি নারী বুথ প্রস্তুত

পর্দার খেলাপে ৫০ বছর ধরে ভোট দেন না, ফরিদগঞ্জে ৫৪ বছর পর ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন রূপসার নারীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম
পর্দার খেলাপে ৫০ বছর ধরে ভোট দেন না, ফরিদগঞ্জে ৫৪ বছর পর ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন রূপসার নারীরা

ফাইল ছবি

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে দীর্ঘ প্রায় ৫৪ বছর ধরে অধিকাংশ নারী ভোটার ভোটকেন্দ্রে যান না— এমন একটি সামাজিক বাস্তবতা ভাঙতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নারী ভোটারদের নিরাপত্তা, পর্দা ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনায় প্রতিটি ধাপে নারী কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭০-এর দশকে জৈনপুরের এক পীরের অনুরোধ মেনে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন। পরবর্তীতে কয়েকটি নির্বাচনে অল্পসংখ্যক নারী ভোট দিলেও তা ছিল নামেমাত্র। তবে ভোট ছাড়া অন্যান্য সামাজিক ও পারিবারিক কর্মকাণ্ডে এই ইউনিয়নের নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।
এ বাস্তবতায় পরিবর্তন আনতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকার নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। পর্দা বজায় রেখে নারীদের ভোটদান সহজ করতে ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে মোট নারী ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ২৯৯ জন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৮টি ভোটকেন্দ্রে নারীদের জন্য ২০টি পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এসব বুথে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণের সব পর্যায়ের দায়িত্বে থাকবেন নারী কর্মকর্তারা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নারী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৮ জন প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নারী বুথগুলোতে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে চিঠি ও মৌখিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে নারীদের ভোটদানে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “নারীদের পর্দা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভোটদানের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। আশা করছি, এবার রূপসা দক্ষিণের নারীরা দীর্ঘদিনের বাধা পেরিয়ে তাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোটকেন্দ্রে আসবেন।”

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।