রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

২১২০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা

ফরিদগঞ্জে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর উত্তাপ, ঝুঁকিপূর্ণ ৫১ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮ কেন্দ্র

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর উত্তাপ, ঝুঁকিপূর্ণ ৫১ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮ কেন্দ্র
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। সম্ভাব্য উত্তেজনা ও সহিংসতার শঙ্কার মধ্যেই ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি।
নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে উপজেলার ১১৮টি ভোটকেন্দ্রকে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় রাখা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণে স্থাপন করা হয়েছে মোট ৪৮৮টি সিসি ক্যামেরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ২ হাজার ১২০ জন সদস্য, যার মধ্যে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ২৬৪ জন। তারা ১১৮টি ভোটকেন্দ্রের ৭৭৩টি বুথে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরই মধ্যে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ৬৫১ জন নারীসহ মোট ৯ হাজার ৩৬৭ জন প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবী ভোটার তাদের ভোট প্রদান করেছেন।
নির্বাচনী ঝুঁকি বিবেচনায় উপজেলার ৫১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৮টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ও বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারেন এবং ভোটের আগে ও পরে কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকবে ৩ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ২ প্লাটুন বিজিবি, ১ প্লাটুন র‌্যাব, ২৯৮ জন পুলিশ সদস্য এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও জানান, ভোটগ্রহণ পরিচালনায় ১২৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭৩৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৪৭৪ জন পোলিং এজেন্ট দায়িত্বে থাকবেন।
 পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবেন। কোনো ধরনের সহিংসতা বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে থাকবে।
এদিকে নির্বাচনী পরিবেশে একদিকে উৎসবমুখর আমেজ থাকলেও অন্যদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা বিরাজ করছে। প্রচারণাকালীন কয়েকটি সহিংসতা এবং প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ ভোটারদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় প্রার্থীর বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক কেন্দ্রগুলোর পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
তবে দীর্ঘদিন পর স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার প্রত্যাশায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফরিদগঞ্জের মানুষ বাড়ি ফিরছেন, যা অনেকটা ঈদ উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। অনেক প্রবাসীও এবার ভোট দিতে দেশে এসেছেন।
তাদের প্রত্যাশা—দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে বিঘ্নিত না হয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।