রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মতলবে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদের উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪০ এম
মতলবে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদের উদ্বোধন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার দক্ষিণ পাঁচগাছিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের তিন তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক সুবিধা সংবলিত ও দৃষ্টিনন্দন জামে মসজিদের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

পুনরায় নির্মাণ শেষে শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে নির্মিত নতুন ভবনের জুম্মার নামাজের মধ্য দিয়ে এ মসজিদের যাত্রা শুরু হলো। পবিত্র জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মসজিদের কার্যক্রম শুরু হয়। মসজিদের নীচতলায় থাকছে মহিলাদের নামাজ এর জন্য অত্যাধুনিক একটি কেন্দ্র যা প্রথম তলা। মসজিদটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। মসজিদ কমপ্লেক্সটিতে রয়েছে নারী এবং পুরুষদের পৃথক ওযুখানা। যেখানে এক সাথে প্রায় ১২০০ মুসুল্লিরা একত্রে জামায়াতে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

মসজিদ কমিটির সভাপতি পাঁচ গাছিয়া গ্রামের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক,পাঁচগাছিয়া আবু আহমাদ দারুল উলূম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা দানবীর আলহাজ্ব মাজাকাত হারুন মানিক তার নিজস্ব অর্থায়নে তার গ্রামবাসীদের নিয়ে পুরনো পাকা মসজিদ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভেঙে ফেলে মহিলাদের নামাজ পড়ার বিশেষ ব্যবস্থাসহ একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুবিধা সংবলিত একটি নতুন মসজিদ নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

যার ভিত্তিপ্রস্তর করা হয়েছিলো গত বছর অর্থ্যাাৎ ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল শুক্রবার। প্রায় ১০ মাসের মধ্যে একটি আধুনিক সুবিধা সংবলিত ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদের নির্মিত নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন করতে মহান আল্লাহ পাকের নিকট লাখো শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি করেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মসজিদটির আর্থিক সহায়তাকারী বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক মাজাকাত হারুন মানিক।

Model Hospital

উদ্বোধন উপলক্ষে পবিত্র জুম্মা বাদ মিলাদ, দোয়া ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থ ব্যায় করে তিন তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক সুবিধা সংবলিত ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদের নির্মিত নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন করায় বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক,পাঁচগাছিয়া আবু আহমাদ দারুল উলূম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা দানবীর আলহাজ্ব মাজাকাত হারুন মানিককে সংবর্ধনা প্রদান করেন পাঁচগাছিয়া গ্রামের যুবসমাজ এবং এলাকার মুসুল্লিরা।

আলোচনা সভায় গ্রামবাসীকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও মসজিদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক দানবীর আলহাজ্ব মাজাকাত হারুন মানিক।

এসময় মসজিদ কমিটির সভাপতি দানবীর আলহাজ্ব মাজাকাত হারুন মানিক বলেন, এ মসজিদটি পুরনো, ছোট ও ঝুঁকিপূর্ন ছিলো। তাই নতুন করে এলাকার মহিলাদের নামাজের সুব্যবস্থাসহ আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য সম্পন্ন ডিজাইনে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। ‘মসজিদটি সবার মন কাড়বে। এটি গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মসজিদে আসতে উৎসাহিত করবে। আশা করি, মসজিদটি দর্শনার্থীদেরও নজর কাড়বে।’

তার বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মসজিদ হলো মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ পবিত্র স্থান। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত রয়েছে মসজিদ মূলত আল্লাহর ঘর এবং আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম জায়গা হলো মসজিদ। যার কারণে মসজিদের সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর হৃদয় ও আত্মার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেজন্য আল্লাহর ঘর মসজিদ নির্মাণ, মেরামত, সংস্কার কাজে দান-সাহায্য করা মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত আনন্দ, গৌরব ও সওয়াবের বিষয়।

তিনি বলেন, আধুনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হবে এ মসজিদটি। আল্লাহর ঘর মসজিদে দানের মাধ্যমে পরকালে অফুরন্ত শান্তি লাভ করা সম্ভব। সেটা দানের পরিমাণ অনুযায়ী নয়, দান করার মানসিকতাই আল্লাহ বিবেচনা করবেন। আমি সেই বিবেচনা নিয়ে এলাকার মুসলমানদের মসজিদ মুখি করার জন্য আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করেছই। সাথে গ্রামবাসীও কিছু সহযোগিতা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, শুধু মসজিদ নির্মাণ করলেই হবে না আমাদের মসজিদের নান্দনিকতা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। মসজিদে নিয়মিত মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। গ্রামর সবাইকে মসজিদমুখী হতে হবে। তাহলেই গ্রাম আলোকিত হবে।

এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মোঃ কামরুজ্জামানের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, মতলবের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আব্দুল মোবিন, পাঁচগাছিয়া গ্রামের সমাজ সেবক গোলাম নবী, আহম্মদ উল্লাহ,ছেংগারচর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ আনোয়ার হোসেন প্রমূখ।
এসময় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ মজিবুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোঃ আলাউদ্দিন ফকির, ব্যবসায়ী মোঃ কবির হোসেন,ছাত্রনেতা মোঃ রায়হান সরকারসহ পাঁচগাছিয়া,জীবগাঁও, ডেঙ্গুরভিটি গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ীবৃন্দ,সুধীবৃন্দ, বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, এলাকার কয়েক শত ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

নবনির্মিত আধুনিক সুবিধা সংবলিত ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদের উদ্বোধন উপলক্ষে পবিত্র জুম্মায় খুতবা ও জুম্মা নামাজ পড়ান উপজেলার খন্দকার কান্দি মাদ্রাসার মুহতামীম হযরত মাওলানা ফয়জুল্লাহ হানিফ সাহেব (দাঃ বাঃ)।

জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদের দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান। দোয়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মসজিদের ইমাম,মুয়াজ্জিন, খতিব ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। জুমার নামাজে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। শেষে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সকলের সধ্যে উপহার হিসেবে প্রত্যেক মুসুল্লিকে নতুন টুপি, আতর,খেজুর উপহার সামগ্রী বিতরণসহ তাবারক বিতরণ করা হয়।

এই মসজিদের মুসল্লি সমাজ সেবক মোঃ আলাউদ্দিন ফকির বলেন, আমাদের পুরনো যে মসজিদটি ছিল ওইখানে জায়গা কম থাকার কারণে মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দে নামাজ আদায় করতে পারেনি। আমাদের গ্রামের কৃতি সন্তান মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মাজাকাত হারুন মানিক ভাই এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আল্লাহর ঘর মসজিদ নানন্দিক এবং দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে । এখন এই মসজিদটি নির্মিত হওয়ায় আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে আনন্দ নিয়ে নামাজ আদায় করতে পারছি এবং দূর-দূরান্ত থেকেও মুসল্লিরা এখানে এসে নামাজ পড়বে। তাছাড়া এলাকার মহিলা মুসুল্লিদের জন্য আলাদা নামাজের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। যার ফলে রমজানে তারাবী ও ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবে। এজন্য আল্লাহর কাছে লাখ কোটি কোটি শুকরিয়া আদায় করছি। এবং সেই সাথে যার অর্থায়নে তিন তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক সুবিধা সংবলিত ও দৃষ্টিনন্দন জামে মসজিদটি হয়েছে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মাজাকাত হারুন মানিক ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। মহান আল্লাহপাক যেন তাকে সুস্থতা সহিত নেক হায়াত দান করেন। তিনি আমাদের এখানে একটি অত্যান্ত মনোরম পরিবেশে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন পাঁচগাছিয়া আবু আহমাদ দারুল উলূম মাদরাসারও প্রতিষ্ঠাতা। যেখানে সারা দেশের এতিম এবং ছাত্ররা মাদ্রাসায় পড়াশুনা করছে। প্রতি বছর কোরআনের পাখি তৈরি হচ্ছে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।