রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর–৪ আসন ফরিদগঞ্জ

দল করেছে বহিষ্কার, জনগণ দিয়েছে পুরস্কার

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২১ পিএম
দল করেছে বহিষ্কার, জনগণ দিয়েছে পুরস্কার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর–৪ আসনে ভিন্ন এক রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন ভোটাররা। দলীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কৃত প্রার্থী আলহাজ্ব এম এ হান্নান শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে এটি ‘দল বনাম জনমতের’ এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
দলীয় সূত্রে তখন দাবি করা হয়েছিল, বিদ্রোহী অবস্থান নেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। তবে নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই মাঠের চিত্র ছিল ভিন্ন। দলীয় পরিচয়ের বাইরে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগ এবং স্থানীয় উন্নয়ন কাজ এবং প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে তিনি ভোটারদের কাছে সমর্থন চান।
নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়জুড়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও ছোট ছোট জনসভা করেন তিনি । স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ তাঁকে ‘নিজেদের মানুষ’ হিসেবে বিবেচনা করে প্রকাশ্যে সমর্থন দেন। ফলে ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে তাঁর সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ভোটারদের অনেকে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাই তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একজন ভোটার বলেন, “দল তাকে বাদ দিয়েছে, কিন্তু আমরা দেখেছি তিনি এলাকায় কাজ করেছেন। তাই আমরা ভোট দিয়ে আমাদের মতামত জানিয়েছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে দলীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে ব্যক্তিনির্ভর ভোটের প্রবণতা আরও স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে বড় দল নির্বাচনের বাইরে থাকায় ভোটের সমীকরণ বদলে গেছে এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। সমর্থকেরা এটিকে ‘জনগণের রায়’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাঁদের ভাষায়, “দল তাকে শাস্তি দিয়েছে, কিন্তু জনগণ পুরস্কার দিয়েছে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলাফল ভবিষ্যতে দলগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—সংগঠনের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তৃণমূলের জনমতকেও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে চাঁদপুর–৪ আসনের রাজনীতিতে এটি নতুন সমীকরণের সূচনা বলেও মনে করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ হলো, শেষ পর্যন্ত ভোটের মালিক জনগণই। বাংলাদেশ এর নির্বাচনী রাজনীতিতে চাঁদপুর–৪ আসনের এই ফলাফল তাই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।