শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে সেচখালে পানির অভাবে ফেটে চৌচির কৃষিজমি, হুমকিতে আমন আবাদ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম
ফরিদগঞ্জে সেচখালে পানির অভাবে ফেটে চৌচির কৃষিজমি, হুমকিতে আমন আবাদ
ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ কড়ৈতলী এলাকায় সেচখালে পানির স্বল্পতার কারণে আবাদকৃত কৃষিজমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। চলতি আমন মৌসুমে রোপণ করা ধান চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। পানির অভাবে কোথাও কোথাও ধানের চারা পুড়ে শুকিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কড়ৈতলী এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে চলতি আমন মৌসুমে ধান রোপণ করেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে সেচখালে পানি থাকায় যোগীকান্দি সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। তখন পাম্প ম্যানেজারের তত্ত্বাবধানে কৃষকরা কোনোভাবে চারা রোপণ সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।
কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে এসে সেচখালে পানি কমে যাওয়ায় পাম্প দিয়ে আর পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিপাকে পড়েছেন শতাধিক কৃষক। জমিতে পর্যাপ্ত সেচ না থাকায় মাটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষক আলমগীর দর্জি, তাফাজ্জল পাটওয়ারী, তসলিম গাজী ও ওমর ফারুকসহ অনেকে বলেন, “ধান রোপণের সময় কোনোভাবে পানি দিয়ে কাজ শেষ করেছি। কিন্তু এখন ক্ষেতে পানি নেই। কয়েক একর জমির চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। জমি ফেটে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হবে। আমরা পথে বসে যাব।”
তারা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত পরিমাণ পানি না পাওয়ায় ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো সেচ না পেলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে যোগীকান্দি সেচ পাম্পের ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, “খালে পানি না থাকলে আমি কীভাবে পানি সরবরাহ করব? খাল ভরাট হয়ে আছে, বিভিন্ন জায়গায় দখলও রয়েছে। খাল খনন না করলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে না। দ্রুত খাল পুনঃখনন করা জরুরি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, পাইকপাড়া দক্ষিণ ও গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের কিছু এলাকায় সেচ সংকটের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি জানান, সম্প্রতি মেঘনা নদীতে পানি কম থাকায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে কৃষকরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অবিলম্বে খাল পুনঃখনন ও বিকল্প সেচব্যবস্থা নিশ্চিত না করা হলে চলতি মৌসুমে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।