চাঁদপুরে দুটি ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে : শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি
নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৪ পিএম
চাঁদপুরে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
চাঁদপুরে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
নব নির্বাচিত এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বক্তব্যে বলেন, জনগণের জন্য কাজ করার মূল কারিগর হচ্ছেন আপনারা বা এই জেলার দপ্তর প্রধানরা। একা কারও পক্ষে উন্নয়ন সম্ভব নয়। ‘আমি’ নয়, ‘আমরা’—এই চেতনা ধারণ করে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। চাঁদপুরকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, একদিনে মাদক সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে নিয়ন্ত্রণে আনা অবশ্যই সম্ভব। প্রশাসন, পরিবার ও সমাজ একসাথে কাজ করলে মাদকের বিস্তার কমানো যাবে। একইসঙ্গে কিশোর গ্যাং দমনে চলমান উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত হয় না। শিক্ষকরা সময়মতো প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে হবে। সিভিল সার্জনকে তার অধীনস্থদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির অসামঞ্জস্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কলেজে ভর্তি হয় ৭০ জন, অথচ নিয়মিত ক্লাস করে মাত্র ১০ জন—এই অবস্থা চলতে পারে না। এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ ও ওরিয়েন্টেশন সভা আয়োজন করতে হবে।
চাঁদপুরে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো: নাজমুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেন, ইপিজেড, চার লেন সড়ক ও বিশুদ্ধ পানির মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, চাঁদপুরে দুটি ইপিজেড স্থাপনের চিন্তা রয়েছে। অন্তত একটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। চাঁদপুর-হাইমচর সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা খাল খনন ও নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ। স্বচ্ছতার সঙ্গে খাল খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া ২৩০০ কোটি টাকার একটি বিশুদ্ধ পানির প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানান, যা বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবেন। পৌর পরিকল্পনা, খেলাধুলা ও যানজট নিরসন পৌরসভার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে এমপি বলেন, অনেক সময় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয় না—এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জেলায় খেলাধুলার পরিবেশ উন্নয়ন, যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বালু সংক্রান্ত সহিংসতা বন্ধ এবং পাসপোর্ট অফিসের অনিয়ম দূরীকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার সভায় তিনি বলেন, আমরা যদি দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তাহলে মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে। জনগণের সেবাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করলে চাঁদপুরকে একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও বাসযোগ্য জেলায় রূপান্তর করা সম্ভব।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর৷ পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যা সেলিম, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
শুরুতেই চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য (চাঁদপুর-৩) শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো: নাজমুল ইসলাম সরকার।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নিবাহী কর্মকর্তা মো: কবির হোসেন সরদার, চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন, চাঁদপুর সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহবুবুর রহমান, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মান্নান, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মাসুদুর রহমান, এলজিইডি চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান কবির, শিক্ষা প্রকাশন অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম শরীফ, সড়ক বিভাগ চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিউর হোসেন, গণপূর্ত বিভাগ চাঁদপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাঃ মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম এন জামিউল হিকমা, চাঁদপুর জেলা কারাগারে জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা, চাঁদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী হিমাদ্রিক হিসা, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান, পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট শোয়েবুর রহমান, চাঁদপুর নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা, জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামান, খলিলুর রহমান গাজী, পৌর বিএনপি সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হারুনুর রশীদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালীসহ চাঁদপুরের ৮০টি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী
মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।