বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হলেন চাঁদপুরের রুপক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:০২ এম
চবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হলেন চাঁদপুরের রুপক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) কার্যনির্বাহী পরিষদ -২০২৬ এর নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার চাপাতলী গ্রামের রেফায়েত উল্যাহ রুপক। তিনি দৈনিক যুগান্তরের চবি প্রতিনিধি।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কবি, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে পরিচিত রেফায়েত উল্যাহ রুপক কচুয়ার ঐতিহ্যবাহী মাসনিগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিন উল্যাহ’র কনিষ্ঠ সন্তান। তিনি রাজধানী ঢাকার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।

তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে কনিষ্ঠ রুপক ছোটবেলা থেকেই নানা সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। স্কুলজীবনেই তিনি স্কাউটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস চাই (পকচা)’। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট নির্বাচন–২০১৬-এ নিজ বিদ্যালয়ে সর্বাধিক ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উদ্যোগে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত ‘সততা সংঘ’-এর নিজ বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি।

Model Hospital

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও তিনি একাধিক সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ইয়ুথ ফর এসডিজি’ ও চাঁদপুর জেলা স্টুডেন্টস’ এ্যাসোসিয়েশন-চবির সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া এক্সিকিউটিভের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’-এর আন্তর্জাতিক সদস্য এবং আঁচল ফাউন্ডেশনের ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় তিনি দৈনিক জনকণ্ঠ, কালের কণ্ঠ, সকালের সময়, দৈনিক বাংলা, সিভয়েস ও দৈনিক কর্ণফুলী পত্রিকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি অনলাইন পোর্টাল খবরবেলা ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।