শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কেক কাটা ও আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ মার্চ, ২০২২, ৫:৩৯ পিএম
মতলব উত্তরে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কেক কাটা ও আলোচনা সভা

মতলব উত্তর ব্যুরো : দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ২ মার্চ সকালে মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে আলোচনা সভা ও কেট কাটা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী শরিফুল হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দৈনিক সময়ের আলোর ষ্টাফ রিপোর্টার ঢালী কামরুজ্জামান হারুন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহীনা আক্তার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালা উদ্দিন, মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল, উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ূম খান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুজাম্মেল হক, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রিপন হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তারিক মাহমুদ হাসান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি শামসুজ্জামান ডলার, মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম মনির, সহ-সভাপতি ও দৈনিক ভোরের ডাক প্রতিনিধি সহিদুল ইসলাম খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাইটিভির প্রতিনিধি দ্বীন ইসলাম, মতলব উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিদিনের সংবাদ প্রতিনিধি এমএম সাইফুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও বিজনেস বাংলাদেশ প্রতিনিধি গোলাম নবী খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক দৈনিক আজকালের খবর প্রতিনিধি মমিনুল ইসলাম, উপজেলা স্কাউটস সম্পাদক আকতার হোসেন, নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম তাজুল ইসলাম,চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দলিল উদ্দিন, ওটার চর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন, এখলাশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, দ্র্গূাপুর জনকল্যান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু স্বপন কুমার সূত্রধর, শিকারীকান্দি আকবরীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী তাছলিমা আক্তার আঁখি, ফাল্গুনী টিভির প্রতিনিধি সফিকুল ইসলাম রানা, এশিয়ান টিভির প্রতিনিধি সুমন আহমেদ, ওটার চর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক গোলাম হায়দার মোল্লা,পাঁচানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, ছেংগারচর জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মোবারক হোসেন প্রমুখ।

Model Hospital

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’