বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

রাফি’র বিদেশে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন থেমে গেলো সড়কে

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
রাফি’র বিদেশে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন থেমে গেলো সড়কে

নিহত রাফি পাটোয়ারীর ফাইল ফটো।

বিদেশে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন ছিল তার। দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট রাফি পাটোয়ারী (২০) ঢাকায় মামার বাসায় থেকে বিদেশ যাওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস-নিজ বাড়িতে ফেরার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেল তার তরতাজা প্রাণ।

রাফি পাটোয়ারী, পিতা বিল্লাল পাটোয়ারী, চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মাঝিগাছা গ্রামের বাসিন্দা। স্বপ্ন ছিল প্রবাসে গিয়ে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা। সেই লক্ষ্যেই কয়েক মাস ধরে ঢাকায় মামার বাসায় অবস্থান করে বিদেশযাত্রার প্রয়োজনীয় ট্রেনিং নিচ্ছিলেন তিনি।

বুধবার বিকেলে ঢাকার বাসা থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন রাফি। পথিমধ্যে গৌরিপুরের আমিরাবাদ এলাকার হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি আল আরাফা পরিবহনের বাসের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি ছিল এতটাই ভয়াবহ যে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গৌরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাত্র দুই মাস আগে একটি নতুন মোটরসাইকেল কিনেছিলেন রাফি। বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজের চলাচলের সুবিধার জন্যই এই ক্রয়। কিন্তু সেই মোটরসাইকেলই যেন হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ সঙ্গী।

রাফি ছিলেন পরিবারের দুই ছেলের মধ্যে ছোট। তার অকালমৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে মাঝিগাছা গ্রামের বাতাস। বিদেশে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর তরুণটির এভাবে চলে যাওয়া কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

রাফির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচাতো ভাই মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, “বিদেশে গিয়ে সংসারের হাল ধরবে—এই ছিল তার স্বপ্ন। কিন্তু সড়কই কেড়ে নিল তার জীবন।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, আমিরাবাদ এলাকার এই সড়কটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির যানবাহন ও অসতর্ক চালনার কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন তারা। সড়কে শৃঙ্খলা ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital