বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

তরপুরচন্ডী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় এডভোকেট আলম খান

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৮ পিএম
তরপুরচন্ডী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় এডভোকেট আলম খান

জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতেই দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ৭নং তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এডভোকেট মোঃ আলম খান (মঞ্জু) স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোঃ আলম খান চাঁদপুর ল’ কলেজের প্রভাষক, আব্দুস ছাত্তার খান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী। পাশাপাশি তিনি চাঁদপুর জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সরকারি কৌশলী (ভিপি-জিপি)।

 তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

প্রার্থীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বিগত তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনেও তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ ও প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছেন।

Model Hospital
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সম্ভাব্য এই প্রার্থী ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছেন। সামাজিক ও পারিবারিক নানা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ইউনিয়নের হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। এ নিয়ে তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা ও প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা আরও জোরদার হবে বলে জানান তার কর্মী-সমর্থকরা।এ বিষয়ে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং আব্দুস ছাত্তার খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এডভোকেট মোঃ আলম খান (মঞ্জু) বলেন, “চাঁদপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের একজন কর্মী হিসেবে আমি চাঁদপুর সদর উপজেলার ৭নং তরপুরচন্ডী ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, নিরাপদ, মডেল ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতায় উন্নয়ন, সুশাসন ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে ৭নং তরপুরচন্ডী ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ইউনিয়নে রূপ দেওয়াই হবে তার লক্ষ্য। তিনি নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের প্রতিটি রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণ এবং সংস্কারের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবেন, যাতে মানুষের চলাচল সহজ, নিরাপদ ও টেকসই হয়। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে মেম্বারদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী ও আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, তরপুরচন্ডী ইউনিয়নে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় বিদ্যালয়মুখী করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এসএসসি পাসের পর ইউনিয়নে কোনো কলেজ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা থেকে ঝরে পড়ে। এ কারণে তরপুরচন্ডী জি. এম. ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে রূপান্তর এবং আলী দাখিল মাদ্রাসাকে ফাজিল পর্যায়ে উন্নীত করার জন্য তিনি উদ্যোগ নেবেন, ইনশাআল্লাহ।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে এডভোকেট আলম খান (মঞ্জু) বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। দল-মত নির্বিশেষে সকলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখাকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন বলেও জানান।

পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কর্মসূচি চালু করে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলা হবে। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নতুন টিউবওয়েল স্থাপন ও পানির প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এছাড়া ইউনিয়নের নাগরিক সেবা সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল সেবা চালু করা এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি। সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত সমাধানে নিয়মিত গণশুনানি ও সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত কর্মসূচি নেওয়া হবে। পাশাপাশি নারী, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।জনগণের আস্থা ও সহযোগিতা পেলে ৭নং তরপুরচন্ডী ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ইউনিয়নে রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এডভোকেট মোঃ আলম খান (মঞ্জু)।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital