চাকরি মেলেনি, হার মানেননি : সংগ্রাম পেরিয়ে এডভোকেট হলেন সাংবাদিক জয়
দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি অধ্যবসায় ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অবশেষে আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জয়। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ পেয়ে তিনি পূর্ণাঙ্গ অ্যাডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

গত ১৫ মার্চ ২০২৬ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে একবারেই সব ধাপের পরীক্ষা পাস করে পূর্ণাঙ্গ অ্যাডভোকেটশিপ অর্জন করেন সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জয়।

জহিরুল ইসলাম জয় দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে মফস্বল সাংবাদিকতায় যুক্ত আছেন। তিনি স্থানীয় দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ, চাঁদপুর প্রবাহ, চাঁদপুর টাইমস–এ কাজ করেছেন। পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠ ও সময়ের আলো পত্রিকায়ও কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় কর্মরত।

তিনি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের মনতলা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মরহুম সুলতান আহমেদ। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা জহিরুল ইসলাম জয় অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নেন। বিবাহিত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক।

পারিবারিক দায়িত্ব ও সাংবাদিকতার ব্যস্ততার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। বিএসএস ডিগ্রি অর্জনের পর চাকরির চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় আবারও পড়াশোনায় মনোযোগ দেন। পরে ২০১৯ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
এরপর থেকে তিনি চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সেলিম আকবরের চেম্বারে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কৃতকার্য হন।
এডভোকেটশিপ অর্জনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জহিরুল ইসলাম জয় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাবার স্বপ্ন পূরণে মায়ের দোয়া ও স্ত্রী’র সহযোগিতা তাঁর এই সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।
আগামী দিনে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে চাঁদপুর জেলার সাংবাদিকসহ দল–মত নির্বিশেষে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।








