শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

চাকরি মেলেনি, হার মানেননি : সংগ্রাম পেরিয়ে এডভোকেট হলেন সাংবাদিক জয়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫৭ পিএম
চাকরি মেলেনি, হার মানেননি : সংগ্রাম পেরিয়ে এডভোকেট হলেন সাংবাদিক জয়

দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি অধ্যবসায় ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অবশেষে আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জয়। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ পেয়ে তিনি পূর্ণাঙ্গ অ্যাডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

গত ১৫ মার্চ ২০২৬ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে একবারেই সব ধাপের পরীক্ষা পাস করে পূর্ণাঙ্গ অ্যাডভোকেটশিপ অর্জন করেন সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জয়।

জহিরুল ইসলাম জয় দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে মফস্বল সাংবাদিকতায় যুক্ত আছেন। তিনি স্থানীয় দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ, চাঁদপুর প্রবাহ, চাঁদপুর টাইমস–এ কাজ করেছেন। পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠ ও সময়ের আলো পত্রিকায়ও কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় কর্মরত।

তিনি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের মনতলা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মরহুম সুলতান আহমেদ। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা জহিরুল ইসলাম জয় অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নেন। বিবাহিত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক।

Model Hospital

পারিবারিক দায়িত্ব ও সাংবাদিকতার ব্যস্ততার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। বিএসএস ডিগ্রি অর্জনের পর চাকরির চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় আবারও পড়াশোনায় মনোযোগ দেন। পরে ২০১৯ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

এরপর থেকে তিনি চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সেলিম আকবরের চেম্বারে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কৃতকার্য হন।

এডভোকেটশিপ অর্জনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জহিরুল ইসলাম জয় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাবার স্বপ্ন পূরণে মায়ের দোয়া ও স্ত্রী’র সহযোগিতা তাঁর এই সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।

আগামী দিনে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে চাঁদপুর জেলার সাংবাদিকসহ দল–মত নির্বিশেষে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।