শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে মুদি দোকানে ভিক্ষুক নারীকে আটকে রেখে ধর্ষণ, হাতেনাতে আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ, ২০২২, ৪:১৩ পিএম
চাঁদপুরে মুদি দোকানে ভিক্ষুক নারীকে আটকে রেখে ধর্ষণ, হাতেনাতে আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৩ নং হানারচর ইউনিয়নের হরিনা বাজারে মুদি দোকানের ভিতরে ৩০ বছর বয়সী এক মহিলা ভিক্ষুককে আটকে রেখে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে হরিনা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী হাকিম বেপারীকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ভিক্ষুক মহিলাকে ধর্ষণ করার ঘটনাটি বহিরাগত কিছু দালাল চক্র ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

হরিনা বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের ইসমাইল বেপারী ছেলে হাকিম বেপারীর দোকানে ভিক্ষার জন্য এক মহিলা যায়। দুপুরে ব্যবসায়ীরা নামাজ পড়তে গেলে সেই সুযোগে তার দোকানের শাটার মেরে জোরপূর্বক ভাবে চান্দ্রা ইউনিয়নের মদিনা মার্কেট এলাকার ভিক্ষুক মহিলাকে ধর্ষণ করে।

এসময় ভিক্ষুক মহিলা ডাক চিৎকার দিলে পথচারীরা সহ বাজার কমিটির হান্নান দোকানের শাটার খুলে আপত্তিকর অবস্থায় ধর্ষণকারী হাকিম বেপারীকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। ধর্ষণের শিকার হওয়া ভিক্ষুক মহিলা এই ঘটনার মুদি ব্যবসায়ী হাকিম বেপারীর বিচারের দাবি জানান।

Model Hospital

দোকানের ভিতর ধর্ষণের ঘটনা জানতে পেরে এলাকার শত শত মানুষ বাজারে এসে ভিড় জমায় ও প্রতিবাদ করে। ঠিক সেসময় বাজার কমিটির হান্নান ধর্ষণকারী হাকিম বেপারির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাকে বাজার থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে হাকিম বেপারীর দোকানের শাটার আটকিয়ে তালা মেরে দেয়।

ভিক্ষুক মহিলাকে ধর্ষণ করার ঘটনাটি ধর্ষণকারী হাকিম বেপারী তড়িঘড়ি করে বহিরাগত কিছু দালাল চক্রদের খবর দিয়ে এনে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ঘটনাটি স্থানীয় কিছু সাংবাদিক খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকে ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এই ধর্ষণকারী হাকিম বেপারী এর পূর্বেও তার দোকানের ভিতর শাটার আটকে অনেক যুবতী ও মহিলাকে ধর্ষণ করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান। দোকানের ভিতর এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করেন ও এই ধর্ষণকারীর বিচারের দাবি জানান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’