পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে দক্ষিণ কুরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশির ক্ষোভ, এমপির হস্তক্ষেপ কামনা
দুর্নীতি আর হয়রানির বেড়াজালে আটকে থাকা একটি সাধারণ সরকারি সেবা—পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। অথচ এই একটি কাগজই নির্ধারণ করে দিতে পারে কারো স্বপ্নপূরণের পথ, কিংবা স্বপ্নভঙ্গের বেদনা।

সাউথ কুরিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে এমনই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তীর এক প্রবাসী বাংলাদেশি। তিনি জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করার পরও কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তার আবেদন দুইবার বাতিল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, থানায় ডকুমেন্ট জমা দিতে গেলে তার কাছে অবৈধভাবে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দ্বিতীয়বার আবেদন বাতিলের সময় তার নামে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য যুক্ত করা হয়—যেখানে বলা হয় তিনি নাকি ২০২৩ সালে জেল খেটেছেন। অথচ বাস্তবে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অপরাধের রেকর্ডই নেই।

একটি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স যেখানে সাধারণত ৭ দিনের মধ্যে পাওয়ার কথা, সেখানে নানা হয়রানিতে প্রায় এক মাস সময় লেগে যায়। এই বিলম্বের কারণে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার, টিউশন ফি জমা এবং ভিসা প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। আরও কয়েকদিন দেরি হলে তার ভর্তি বাতিল হয়ে যেত, থেমে যেত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।

শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রাজনৈতিক সহায়তা নেওয়ার পর তিনি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পান। সেই মুহূর্তের অনুভূতি তার ভাষায়—“মনে হয়েছিল যেন সোনার হরিণ পেয়েছি।”
এই অভিজ্ঞতা কেবল একজনের নয়—এমন অভিযোগ রয়েছে আরও অনেকের। যদি একটি সাধারণ সরকারি সেবা পেতেও ঘুষ দিতে হয়, মিথ্যা তথ্য জুড়ে দিয়ে হয়রানি করা হয়—তাহলে তা রাষ্ট্রের জন্য যেমন লজ্জাজনক, তেমনি নাগরিকদের জন্য হতাশাজনক।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তীর সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী বলেন, “বিষয়গুলো ছোট মনে হলেও এগুলো মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের সাথে জড়িত। দয়া করে এসব অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন।”
একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি—যেখানে একজন নাগরিককে তার ন্যায্য অধিকার পেতে আর কোনো ‘সোনার হরিণের’ পেছনে ছুটতে না হয়।








