শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে দক্ষিণ কুরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশির ক্ষোভ, এমপির হস্তক্ষেপ কামনা

আহমেদ সিয়াম, শিক্ষার্থী, দক্ষিণ কুরিয়া প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে দক্ষিণ কুরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশির ক্ষোভ, এমপির হস্তক্ষেপ কামনা

দুর্নীতি আর হয়রানির বেড়াজালে আটকে থাকা একটি সাধারণ সরকারি সেবা—পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। অথচ এই একটি কাগজই নির্ধারণ করে দিতে পারে কারো স্বপ্নপূরণের পথ, কিংবা স্বপ্নভঙ্গের বেদনা।

সাউথ কুরিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে এমনই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তীর এক প্রবাসী বাংলাদেশি। তিনি জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করার পরও কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তার আবেদন দুইবার বাতিল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, থানায় ডকুমেন্ট জমা দিতে গেলে তার কাছে অবৈধভাবে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দ্বিতীয়বার আবেদন বাতিলের সময় তার নামে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য যুক্ত করা হয়—যেখানে বলা হয় তিনি নাকি ২০২৩ সালে জেল খেটেছেন। অথচ বাস্তবে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অপরাধের রেকর্ডই নেই।

একটি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স যেখানে সাধারণত ৭ দিনের মধ্যে পাওয়ার কথা, সেখানে নানা হয়রানিতে প্রায় এক মাস সময় লেগে যায়। এই বিলম্বের কারণে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার, টিউশন ফি জমা এবং ভিসা প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। আরও কয়েকদিন দেরি হলে তার ভর্তি বাতিল হয়ে যেত, থেমে যেত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।

Model Hospital

শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রাজনৈতিক সহায়তা নেওয়ার পর তিনি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পান। সেই মুহূর্তের অনুভূতি তার ভাষায়—“মনে হয়েছিল যেন সোনার হরিণ পেয়েছি।”

এই অভিজ্ঞতা কেবল একজনের নয়—এমন অভিযোগ রয়েছে আরও অনেকের। যদি একটি সাধারণ সরকারি সেবা পেতেও ঘুষ দিতে হয়, মিথ্যা তথ্য জুড়ে দিয়ে হয়রানি করা হয়—তাহলে তা রাষ্ট্রের জন্য যেমন লজ্জাজনক, তেমনি নাগরিকদের জন্য হতাশাজনক।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তীর সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী বলেন, “বিষয়গুলো ছোট মনে হলেও এগুলো মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের সাথে জড়িত। দয়া করে এসব অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন।”

একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি—যেখানে একজন নাগরিককে তার ন্যায্য অধিকার পেতে আর কোনো ‘সোনার হরিণের’ পেছনে ছুটতে না হয়।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।