রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

খোলা হয়েছে আইসোলেশন

কচুয়ায় হামে আক্রান্ত ৪ শিশু, হাসপাতালে ভর্তি-২

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪২ পিএম
কচুয়ায় হামে আক্রান্ত ৪ শিশু, হাসপাতালে ভর্তি-২

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের আক্রান্ত ২ শিশু আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি।

সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরের কচুয়ায় এক সপ্তাহে হামের আক্রান্ত হয়েছেন ৪ শিশু, ২ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা অপর ২ শিশু বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ৪ জন শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ জাহিদ হোসাইন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তথ্য সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ শিশুর মধ্যে ২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন । তারা হলেন, উপজেলার পালাগিরি চেয়ারম্যান বাড়ির জহিরুল ইসলামের মেয়ে মরিয়ম আক্তার (৪), অপর দেড় বছরের শিশু আয়ানের বাড়ি নোয়াখালী জেলার রায়পুরে উপজেলার সবুজ মিয়ার ছেলে।

মঙ্গলবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জ্বর, সর্দি, কাঁশিসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে শিশুরা। হাম রোগে আক্রান্ত রোগীদের লক্ষণ দেখে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে।

শিশু মরিয়মের মা সুবর্ণা আক্তার জানান, “কয়েক দিন ধরেই মেয়ের খুব বেশি জ্বর ছিল, সাথে শরীর লাল হয়ে যাচ্ছিল। ভয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে আসার পর ডাক্তাররা জানিয়েছেন ওর হাম হয়েছে এবং সাথে সাথেই আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আগের থেকে এখন কিছুটা সুস্থ মরিয়ম।

Model Hospital

হাসপাতালের চিকিৎসক নবজাতক, শিশু-কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ মামুন সরকার বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের চোখ লাল হওয়া, জ্বরের তাপমাত্রা বেশি, কাঁশি, শরীর লালচে বর্ণের হয়ে থাকে। তাদেরকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অভিভাবকদের মনোবল না হারিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শিশুদের সেবা করার আহবান জানান।

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ জাহিদ হোসাইন বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। ১০ ব্যাডের একটি আইসোলেশনে ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। ২ শিশুকে আলাদা আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামের প্রতিরোধ মূলক পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন রয়েছে। ৯ মাস থেকে ১৫ মাস পর্যন্ত সকল টিকা প্রার্থীকে নিকট বর্তি কেন্দ্রে টিকা দিতে পারবেন। হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিতে হাসপাতালে বাড়তি ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।