বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে তৎপর চক্র

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৯:২৬ পিএম
ফরিদগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে তৎপর চক্র

ফরিদগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, অনাহারে একটি পরিবার।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের হাওয়াকান্দি গ্রামে বিএনপির নাম ব্যবহার করে একটি চক্র চাঁদা দাবি ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয়ভাবে একটি কথিত অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা কেন্দ্র করে ভয়ভীতি দেখিয়ে এক যুবককে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরে তাঁর বড় ভাইয়ের জীবিকার একমাত্র সম্বল অটোরিকশাও জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েও এখন পর্যন্ত প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল হাওয়াকান্দি গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে শাহজালালকে ঘিরে এক প্রতিবেশী তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন তৈরি হয়। তবে ওই তরুণী বা শাহজালালের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কিংবা স্থানীয়ভাবে কোনো লিখিত অভিযোগ বা বিচার দাবি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি চক্র শাহজালালের পরিবারকে চাপে ফেলে। একপর্যায়ে শাহজালালের বড় ভাই হেলাল গাজীর কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর অটোরিকশাটি জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়।
হেলাল গাজী বলেন, “আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা মিথ্যা। আমরা প্রতিবাদ করায় আমার অটোরিকশা নিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
শাহজালালের স্ত্রী নিপা আক্তার ও হেলাল গাজীর স্ত্রী ডলী বেগম বলেন, “ঘরে খাবার নেই। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে। প্রথমে টাকা চেয়েছে, পরে অটোরিকশা নিয়ে গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা শামীম পাটওয়ারী ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির বলেন, খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও হয়রানি করে আসছে। শাহজালালকে ঘিরে যে ঘটনা ছড়ানো হয়েছে, সে বিষয়ে ছেলে বা মেয়ের পরিবার কেউই বিচার দাবি করেনি। তারপরও বিষয়টিকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি ও অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের একজন, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঞ্জিল হোসেন বলেন, “অটোরিকশার চাবি প্রথমে আমার হাতে এলেও পরে খলিলুর রহমান সেটি নিয়ে যায়। খলিলুর রহমান বিএনপির কোনো পদে নেই। সে দলের নাম ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করে বেড়ায়।”
অভিযুক্ত খলিলুর রহমানকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ মেলেনি।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগীর অটোরিকশাটি উদ্ধারে অভিযান চলছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital