বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় বাবা-মা হারা শিশুদের ভরসা হাজী ইদ্রিস মুন্সি শিশু সদন মাদ্রাসা

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১:০৭ এম
কচুয়ায় বাবা-মা হারা শিশুদের ভরসা হাজী ইদ্রিস মুন্সি শিশু সদন মাদ্রাসা

কচুয়ায় নলুয়া হাজী ইদ্রিস মুন্সি শিশু সদন এতিমখান মাদ্রাসা।

কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের দুস্থ অসহায় ও এতিমদের সেবার জন্য নলুয়া হাজী ইদ্রিস মুন্সি শিশু সদন এতিমখানটি ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই এতিমখানা টি ১৯৮৬ সালের জানুয়ারি মাসে নিবন্ধিত হয়। নলুয়া হাজী ইদ্রিস মুন্সি শিশু সদন এতিমখানায় থাকা দুস্ত ও এতিমদের তিন বেলা খাবার এবং পড়ালেখার সুব্যবস্থা জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ক্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রাপ্ত হয়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমান মাদ্রাসায় ১২ জন এতিম শিক্ষার্থী রয়েছে এছাড়াও অন্যান্য শিক্ষার্থী রয়েছে ১৩জন। মাদ্রাসায় সব মিলে ২৫জন শিক্ষার্থী আছে। এদের জন্য দুজন শিক্ষক, একজন বাবুর্চি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নৈশ প্রহরী রয়েছে। ১২ জন এতিম শিক্ষার্থী সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ক্যাপিটেশন বরাদ্দ পায় প্রতি বছরে ২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা। দুইজন শিক্ষক, একজন বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ সকল ব্যয় মিলে এতিমখানা মাদ্রাসায় খরচ হচ্ছে সাড়ে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা।

প্রতিবছরে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতার সুযোগ্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম আব্দুল মোতালেব।

স্থানীয়রা জানান, এতিমখানাটি যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন এই এলাকায় বাবা-মা হারা এতিম সন্তানরা পড়ালেখা করার জন্য সুযোগ করে দিয়েছে। এতিমখানা লেখাপড়া করে এতিমরা বড় হয়ে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে অনেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মরহুম ইদ্রিস আলীর সুযোগ্য সন্তান ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম আব্দুল মোতালেবের তার ও পরিবারের অর্থ এই প্রতিষ্ঠানে ব্যয় করে আসছে। সরকারি যে পরিমাণ অর্থ পায়, শিক্ষার্থীদের খাবার, পোশাক, ওষুধসহ অন্যান্য খরচ পূরণ হয় না। সরকারি অনুদানের অর্থ চেয়ে দ্বিগুণ অর্থ প্রতিষ্ঠানে দিয়ে যাচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম আব্দুল মোতালেব।

Model Hospital

তারা আরো জানান, এতিমখানা সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ক্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রাপ্ত হয় তখন ৩৭ জন এতিম শিক্ষার্থী ক্যাপিটেশন বরাদ্দ পায়। বর্তমান চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা ও কচুয়া উপজেলার সমাজসেবা অফিস এতিম কমিয়ে ১২ জন ক্যাপিটেশন বরাদ্দের আওতায় এনে। সরকারি যে পরিমাণ বরাদ্দ পায় এর থেকে দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

হাজী ইদ্রিস মুন্সী শিশু সদন এতিমখানার এতিম এবং দুস্ত অসহায় শিশুরা গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের ভালো খাবার দেয়, ভালো জামা কাপড় দেয়, আমরা ভালো জায়গায় থাকি, আমাগো পড়ালেখা করায়, আমাদের হুজুর,প্রতিষ্ঠাতা ছেলে আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার একেএম আব্দুল মোতালেব সাহেব অনেক ভালো। আমাদেরকে অনেক আদর যত্ন করে।

এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতার সুযোগ্য সন্তান বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার একেএম আব্দুল মোতালেব বলেন, এতিমখানা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অসহায় দুস্ত এতিম ছাত্রদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে আমরা ১২ জন এতিমের তিন বেলা খাবারের অনুদান পাই। কিন্তু এই টাকায় আমাদের হয় না।

পরিবারের কাছ থেকে অর্থ অনুদান সংগ্রহ করে এই এতিমখানাটি চালিয়ে আসছি। অথচ উল্টো আমাদের বদনাম হয়। কষ্ট নিয়ে বলছি, আমার মনের অজান্তে কোনদিন এতিমখানা থেকে এক টাকাও যদি পেটে ঢুকিয়ে থাকি তাহলে যেন আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ধ্বংস করে দেয়। এই এতিমখানা থেকে অনেক অসহায় এতিম শিশু বড় হয়ে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে জীবনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিয়েছে।

তিনি আরো জানান,দেশ বিদেশের খ্যাতিমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে সুনামের সাথে অধ্যয়নরত দেশবরেণ্য উলামা মাশায়েখের সোহবত ইয়াফতা ও হাতে গড়া দক্ষ অভিক্ষ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা পাঠদান। বিশেষ করে বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা পাঠদানসহ ফলাফলের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অর্জনের প্রচেষ্টা। তাই আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য চলে আসুন নলুয়া হাজী ইদ্রিস মুন্সী শিশু সদন এতিমখানায়।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital