বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেধা মেলার প্রদর্শনী

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হতে হবে : ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:০১ পিএম
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হতে হবে : ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি
শাহরাস্তিতে প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমধর্মী ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচি  অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তরুণ প্রজন্মের বিজ্ঞানমনস্কতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা সক্ষমতা বিকাশে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে উপজেলার ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণাভিত্তিক ও সৃজনশীল প্রকল্প উপস্থাপন করে।
শুক্রবার (১২ জুন) শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ  মিলনায়তনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (সেডিপ)-এর ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’-এর ব্যবস্থাপনায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার বহুমাত্রিক প্রকাশ ঘটে। এতে  প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ – শাহরাস্তি) আসনের সাংসদ  লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক এমপি।
তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হতে হবে। আজকের তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাই আগামী দিনে দেশের অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্পখাতকে নেতৃত্ব দেবে। মুখস্থনির্ভর শিক্ষার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও প্রায়োগিক জ্ঞান অর্জনের দিকে মনোযোগী হতে হবে, যাতে তারা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের দক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
তিনি উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে বিশেষ করে জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত চার মাসে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।
এর মধ্যে মেহের ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের প্রধানমন্ত্রী সম্মতি , হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি হাসপাতালকে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচির বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সুবিধাজনক সময়ে সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে সংসদ সদস্য বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে এলাকায় শিল্পকলা একাডেমি ও আধুনিক স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও  বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  মনিরা খাতুন। তিনি বলেন, “উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে এত চমৎকার সুপ্ত প্রতিভা ও উদ্ভাবনী শক্তি রয়েছে, আজকের প্রদর্শনী না দেখলে তা উপলব্ধি করা কঠিন হতো। তরুণদের এই মেধা বিকাশে উপজেলা প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে। বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
প্রদর্শনীতে উপজেলার ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২২টি স্টল স্থাপন করে দলগতভাবে অংশগ্রহণ করে। তাদের প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা,বিকল্প জ্বালানি উদ্ভাবন,  তথ্যপ্রযুক্তি ও রোবোটিক্সভিত্তিক উদ্ভাবন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ধারণা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল বাণিজ্যিক উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের উপস্থাপিত এসব যুগোপযোগী উদ্ভাবন অতিথি ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা, শাহরাস্তি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ রুপন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন, উপজেলা মাধ্যমিক সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুর রহিম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, যুবদলের সভাপতি আলী আজগর মিয়াজী, ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এবিএম পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন মিয়াজী, স্বেচ্ছাসেবক দলের  আহ্বায়ক মোঃ মাসুদ হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল সাদাফ, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, হিসাবরক্ষক আবুল হাসেম, অফিস সহকারী মোহাম্মদ মাইনুদ্দিনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।প্রদর্শনী শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে প্রথম স্থান অর্জন করে নিজ মেহের মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে শুয়াপাড়া জিকে উচ্চ বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে মেহের ডিগ্রি কলেজ।
দিনব্যাপী এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, গবেষণাভিত্তিক চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital