বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে : ইঞ্জিঃ মমিনুল হক এমপি

মেহার ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় আনন্দ র‌্যালিও আলোচনা সভা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
মেহার ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় আনন্দ র‌্যালিও আলোচনা সভা
চাঁদপুরে শাহরাস্তির মেহের ডিগ্রী কলেজ সরকারি করনের দ্বারপ্রান্তে  পৌঁছানোয় বইছে আনন্দের জোয়ার। ওই কলেজ  সরকারিকরণের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতি লাভের খবরে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ।
এ অর্জনকে ঘিরে শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
এ উপলক্ষে বিকেল ৩টায় মেহার ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে আনন্দ র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কলেজ ক্যাম্পাস পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
আলোচনা সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, স্লোগান ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, “১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত মেহার ডিগ্রি কলেজ শাহরাস্তির অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারিকরণের এ সুখবর আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। এটি শুধু কলেজের অর্জন নয়, সমগ্র এলাকার মানুষের সম্মিলিত সাফল্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মমিনুল হক এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার  বিজ্ঞ নির্বাহী  ম্যাজিস্ট্রেট  মনিরা খাতুন, উপজেলা  বিএনপির সভাপতি আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন। সভাপতিত্ব করেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু ইউসুফ রূপন পাটোয়ারী। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান,শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মীর মাহবুবুর রহমান, কলেজ উপাধ্যক্ষ জিয়াউদ্দিন চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মমিনুল হক এমপি বলেন, “মাত্র চার মাসের মধ্যে বিএনপি সরকার শাহরাস্তি উপজেলার উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মেহার ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের সিদ্ধান্ত, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং বিভিন্ন খাল পুনঃখনন কার্যক্রম তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।”
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “শুধু সরকারিকরণ বা অবকাঠামোগত উন্নয়নে সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
মেহার ডিগ্রি কলেজের প্রতি নিজের আবেগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি মেহার ডিগ্রি কলেজকে নিজের কন্যাসন্তানের মতো ভালোবাসি। আমার সন্তান যেমন নিরাপদ থাকে, কলেজের পরিবেশও তেমন নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে হবে।
সরকারিকরণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং এ অঞ্চলের শিক্ষার বাতিঘর হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগে আমাদের এলাকায় একটি কলেজ সরকারিকরণ হয়েছিল, কিন্তু প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাতে পারেনি। আমি চাই মেহার ডিগ্রি কলেজ একটি আদর্শ সরকারি কলেজ হিসেবে গড়ে উঠুক এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক।” কলেজ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসে বৃহৎ পরিসরে একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যেখানে এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, মেহার ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের ফলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে এবং জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধা বিকাশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু ইউসুফ রূপন পাটোয়ারী তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “এত দ্রুত কলেজটি সরকারিকরণের পথে এগিয়ে যাবে, তা আমরা ভাবিনি। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃষ্টি এবং মাননীয় সংসদ সদস্যের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আজ আমরা গর্ব করার মতো একটি অর্জন পেয়েছি।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা তোমাদের জন্য কলেজকে জাতীয়করণের পথে নিয়ে এসেছি। এখন তোমাদের দায়িত্ব একটি শিক্ষিত ও আলোকিত জাতি উপহার দেওয়া।বক্তারা বলেন, মেহার ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণ কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি এ অঞ্চলের শিক্ষা, উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দীর্ঘদিনের এ অর্জন শাহরাস্তির শিক্ষার ইতিহাসে এক স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাহেদুল হক মজুমদার  সোহেল এবং সদস্য সচিব এহতেশামুল হক গনি।
এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাতীঁ দলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, সাবেক পৌর বিএনপি আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক পাটোয়ারী, মেহার ডিগ্রি কলেজের প্রথম নির্বাচিত ভিপি শাহ মোহাম্মদ আলী, পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবুল কালাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন, সদস্য সচিব আলী আজগর মোল্লা, ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এবিএম পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ হোসেন এবং জাকির হোসেন ভিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস, প্রাণবন্ত স্লোগান, করতালি এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্নে বিভোর মানুষের উচ্ছ্বাস। মেহার ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের এ অর্জনকে শাহরাস্তিবাসী দেখছেন শিক্ষা ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital