শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ স্মরণে প্যাপিরাস পাঠাগারের সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ স্মরণে প্যাপিরাস পাঠাগারের সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনা সভা

‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো।’ বিখ্যাত এই গানের রচয়িতা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ স্মরণে সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে প্যাপিরাস পাঠাগার। শুক্রবার ২৬ জুন বিকেল ৫টায় চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডস্থ প্যাপিরাস পাঠাগার কার্যালয়ে এ আড্ডার আয়োজন করা হয়।

পাঠাগারের সভাপতি ও বাঁশি উৎসবের রূপকার অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণির সভাপতিত্বে, প্রধান পরিচালক মিজানুর রহমান স্বপনের সঞ্চালনায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন, ব্যারিস্টার জহির উদ্দিন বাবর। তিনি বলেন, এক সময় রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ গানটি আমরা দল বেঁধে গাইতাম। রুদ্রকে নিয়ে আমাদের চাঁদপুরে অনুষ্ঠান হচ্ছে দেখে খুব ভালো লাগছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাফরানী স্পোটিং ক্লাবের জেনারের সেক্রেটারী এমদাদুল হক মিলন ও শিশু থিয়েটারের সভাপতি পিএম বিল্লাল।

অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ভাতিজা কবি শেখ সাইফুল্লাহ রুমি যুক্ত হয়ে এই আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কবিকে প্যাপিরাস পাঠাগার স্মরণ করছে জেনে আমি আনন্দিত। বিষয়টা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

Model Hospital

প্রেম ও দ্রোহের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ-এর ‘জীবন ও সাহিত্য’ সম্পর্কে আলোচনা করেন, বিজয়ী-এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান, সাংবাদিক ও সমাজসেবক আশিক খান, দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাঈদ হোসেন অপু চৌধুরী, পাঠাগারের উপদেষ্টা দিলীপ ঘোষ, উপ-সভাপতি ফেরারী প্রিন্স, নির্বাহী সদস্য নাজমুল ইসলাম, ভাসানী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংঘের কর্ণধার সাইফুল ইসলাম রাজিব, শিক্ষক মানসুরা বেগম আছমা,  ছাত্রনেতা ও সমাজকর্মী রিজভী শাহরিয়ার তানিম, সাহিত্যানুরাগী মনির হোসেন খান ও ফরহাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী আমির হোসেন বাপ্পি। সংগীত পরিবেশন করেন লিজা ইসলাম জুজু।

বাঁশি উৎসবের রূপকার অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি বলেন, ‘আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই/আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি, ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে’ এই কবিতা রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহকে সীমাহীন খ্যাতি এনে দিয়েছে।

আমরা অনেকেই জানি না, ‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো।-এই বিখ্যাত গানের রচয়িতাও কিন্তু রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। ক্ষণজন্মা এই কবিকে আমরা আজ প্রাণভরে শ্রদ্ধা নিবেদন করি।
অনুষ্ঠানে প্রেম ও দ্রোহের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ-এর ‘জীবন ও সাহিত্য’ সম্পর্কে প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেন বক্তারা।

সব শেষে চা-চক্রের আয়োজন করা হয়।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।