বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজে গভর্নিং বডির সভা ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪১ এম
শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজে গভর্নিং বডির সভা ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সম্পন্ন

শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির সভা ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসান সহ শিক্ষকবৃন্দগণ।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী  শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির সভা ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১জুলাই (বুধবার) সকাল ১১টায় কলেজের সভাকক্ষে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি  সোহেল রুশদী।
প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান সোহেল রুশদী বলেন, জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠা  লাভ করে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আমার দাদা শিক্ষাবিদ মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদীর প্রতি কৃতজ্ঞ জানাচ্ছি  ও আজকের দিনে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ৷ যার ফলে নারী শিক্ষায় এ কলেজটি গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রেখে আসছে। তিনি বলেন,যদি যার যার স্ব স্ব কাজকে আন্তরিকভাবে ভালোবেসে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে তাহলে কাজে সফলতা আসবেই। জুলাই গণঅভুথানের পর পুনরায় চেয়ারম্যান নিযুক্ত হলাম।
তিনি বলেন, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ মানিক সাহেব চাঁদপুরের উন্নয়নে কাজ করছেন,চাঁদপুরকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন। সেই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিার্বাচনী ইশতেহারগুলো পপর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন  করে যাচ্ছেন। আমার খালা মহিলা (আসন-৩০৩)এর সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রাশেদা বেগম হীরা এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী ছিলেন। তিনিও যতটুকু সুযোগ আছে তার থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করছেন। সহযোগিতা করছেন।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চীেধুরী মরহুম রুশদী সাহেবের অনুরোধ তৎকালীন এ কলেজেে নাম ঘোষনা করেন। এ প্রতিষ্ঠানকে আমি খুব ভালোবাসি। আমি  প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো  উন্নয়নে কাজ  করছি।আরো কাজ বাকী আছে তা পর্যায়ক্রমে করবো। প্রতিষ্ঠানকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সকলের সহযোগিতা চাচ্ছি।বিশেষ করে এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের সহযোগিতা লাগবে।আমি এ কলেজটিকে একটি মডেল  প্রতিষ্ঠান করতে চাই।তাই সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এ প্রতিষ্ঠানের  অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা হবে৷ শিক্ষার্থীরা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের প্রান। তাই কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে৷ পড়ালেখার মান বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের পাঠদানের প্রতি আরো মনোযোগী হতে হবে।শিক্ষকদের আগমন- প্রস্থান নিশ্চিত করা হবে ।
লেখাপড়ার মান বৃদ্ধি করতে হবে। রেজাল্ট ভালো করতে হবে। শিক্ষাথীদেরকে কলেজমুখী করতে হবে,ক্লাস নিশ্চিত করতে হবে ।শুধু পুথিগত বিদ্যা হলেই চলবে না, বর্তমান সময়ে সাধারণ জ্বান ও তথ্য প্রযুক্তিগত শিক্ষা অর্জন করা জরুরী। শিক্ষার্থীদেরকে মানবিক ও সর্বোপরি ভালো মানুষ হতে হবে।
কলেজের সহকারি অধ্যাপক মো: জহিরুল ইসলাম খান মুরাদের পরিচালনায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শাহতলী কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, জিলানী চিশতী উচ্‌চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোহসিন উদ্দিন, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা: তহমিনা আক্তার।
এ সময় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, সহকারি অধ্যাপক মিসেস নুরুন্নাহার বেগম মুক্তা, সহকারি অধ্যাপক মাও. ছোহাইল আহমাদ চিশতী,  কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা আক্তার, সহকারি অধ্যাপক মো: জিয়াউর রহমান, সহকারি অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহামন, সিনিয়র প্রভাষক মো: মানিক মিয়া, প্রভাষক মো: মাহবুবুর রহমান, প্রভাষক মো: শাহাদাত হোসেন,  প্রভাষক মোসা মনোয়ারা বেগম, প্রভাষক ফরিদা ইয়াসমিন, প্রভাষক মনোয়ারা আক্তার, সহকারি শিক্ষক নাছরীন আক্তার, শরীরচর্চা শিক্ষক হালিমা আক্তার, কলেজ অফিস ইনচার্জ মো: রানা সরকার, হিসাব সহকারি মো: মেহেদী হাসান সহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় কলেজের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসানের  নেতৃত্বে শিক্ষকবৃন্দ  ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়৷
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসান। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন কলেজের সহকারি অধ্যাপক মাওলানা ছোহাইল আহমেদ চিশতী।
এদিকে, কলেজের অনুষ্ঠান শেষে বেলা ১২টায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।