রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

"কাচারী ঘর নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সন্ধান দেবে"

চাঁদপুরের শাহতলী মুন্সী বাড়ি’র কাচারী ঘর উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৮ এম
চাঁদপুরের শাহতলী মুন্সী বাড়ি’র কাচারী ঘর উদ্বোধন

শাহতলী মুন্সী বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী কাচারী ঘর উদ্বোধন করেন চাঁদপুরের কৃতি সন্তান মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) ও এগ্রিকালচারিষ্টস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের  ৪নং ওয়ার্ডের বড় শাহতলী মুন্সী বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম পুন: কাচারী ঘর উদ্বোধন করা হয়েছে।
৪ জুলাই (শনিবার) দুুপুরে রুশদী বাড়ী- মুন্সি বাড়ীতে ঐতিহ্যবাহী কাচারী ঘর উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি চাঁদপুরের কৃতি সন্তান মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) ও এগ্রিকালচারিষ্টস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার।
উদ্বোধন শেষে শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী’র সভাপতিত্ব স্মৃতিচারন করে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের কৃতি সন্তান মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) ও এগ্রিকালচারিষ্টস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক হচ্ছে কাচারি ঘর। যা একসময় মূল বাড়ীর সামনে বৈঠকখানা হিসেবে ব্যবহৃত হত। গ্রামীণ শালিসি কার্যক্রম কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের স্থাপনা হিসেবে বাড়ীর আঙ্গিনায় স্থাপিত কাচারি ঘরের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। কালের আবর্তে ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রাচীন ঐতিহ্যের এ অনুসংগটি হারিয়ে যেতে বসেছে।
অতি সম্প্রতি চাঁদপুর সদরের অন্তর্গত শাহতলী গ্রামে আমার নানার বাড়ীর প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কাচারি ঘরটি স্থানীয়ভাবে  বিনির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়। সংবাদটি আমার নজরে আসার পর আমিও সম্পৃক্ত হলাম জীর্ণশীর্ণ পুরনো এ ঘরটি পুন:নির্মানের। এর পেছনের অন্যতম কারণ ছিল আবেগ অনুভূতির।
শুনেছি আজ থেকে সত্তর বছর আগে আমার বাবা চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার প্রত্যন্ত গ্রাম হতে বরযাত্রী বেশে সদর থানার শাহতলী গ্রামের এ কাচারি ঘরে এসে আমার মায়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর-কনে পক্ষ কাচারি ঘরে বসে আলাপ আলোচনাকরত: বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা শেষে অতিথি আপ্যায়নে লিপ্ত হন। এভাবেই বিয়ে শাদি, মেহমানদারী, ঘরোয়া শালিস, মক্তবের পড়াশুনা, লজিং মাষ্টারের আবাসস্থল ও স্থানীয় সামাজিক রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পাদনের উপযুক্ত স্থাপনা ছিল গ্রামীন এ ঐতিহ্যবাহী ঘরটি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দু’বছরের নির্মাণ কার্যক্রম শেষে আজ ৪ জুলাই শনিবার নানার বাড়ীর হারিয়ে যাওয়া এ ঐতিহ্য স্থাপনাটির শুভ উদ্বোধন করি। ঢাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের চাঁদপুর নিয়ে এসে নবপ্রজন্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হল প্রাচীন এ সভ্যতাকে। মনে করানো হল আমাদের পূর্ব পুরুষদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সহিত। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আমার প্রিয় ভাতিজা চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, ঢাকা থেকে আগত শ্রদ্ধেয় তাজু ভাই, কাচারি ঘরের অন্যতম কারিগর নুরুজ্জামান মুন্সী ও নিকটাত্মীয় স্বজন। সবশেষে আমি সবাইকে অনেক ধন্যবাদ জানাই পুরনো ঐতিহ্যকে নবরুপে প্রতিষ্ঠার জন্য এবং নিরলস পরিশ্রম ও মেধার স্বাক্ষর রেখে আধুনিক দুনিয়ায় পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য।
জিলানী চিশতী কলেজের সহকারি অধ্যাপক মো: জহিরুল ইসলাম খান মুরাদের পরিচালনায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
তিনি বক্তব্যে বলেন, কাচারীঘর আমাদের পূর্ব পুরুষদের এক নিদর্শন। কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ এ এতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। তাই আজ এ কাচারী ঘরকে আধুনিক ভাবে করে এর উদ্বোধন করা হয়। আজকে যিনি উদ্বোধন করেছেন তিনি বিশিষ্ট শিল্পপতি মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) ড. কামরুজ্জামন কায়সার সাহেব। সকলের কাচারী ঘর ইতিহাস,  ঐতিহ্য জানতে হবে।
শুরুতে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চাঁদপুরের কৃতি সন্তান মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) ও এগ্রিকালচারিষ্টস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার, সভাপতি সাংবাদিক সোহেল রুশদী সহ অতিথি বৃন্দগণকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে ফিতা কেটে কাচারী ঘরের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়৷
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ড. কাামরুজ্জামান কায়সারের সহ-ধর্মীনি আবিদা আফিফা কামরুজ্জামান, জামাতা রুবায়েত ই শামস অনিক, ছেলে নাফিস ইবনে জামান, মেয়ে নওসিন ফারাহ জামান।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসান, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোহসীন উদ্দিন, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, জিলানী চিশতী কলেজের সহকারি অধ্যাপক ফারজানা আক্তার, প্রভাষক সুমা পাল, প্রভাষক মনোয়ারা আক্তার, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা ফাহিমা জাহান, কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক হালিমা আক্তার, স্থানীয় মো: মানিক মুন্সি, মো: হাসান মুন্সি সহ অন্যান্যরা।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।