শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সন্তানকে চড় মারায় বিদ্যালয়ে ঢুকে নারী প্রধান শিক্ষককে পেটালেন অভিভাবক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:১১ এম
সন্তানকে চড় মারায় বিদ্যালয়ে ঢুকে নারী প্রধান শিক্ষককে পেটালেন অভিভাবক

চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যালয়ে ঢুকে নারী প্রধান শিক্ষককে পিটিয়েছেন এক অভিভাবক। বুধবার দুপুরে জেলা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে আচমকা চড়-থাপ্পড় মারেন ওই অভিভাবক। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ে যেতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

শিক্ষককে মারধরের ভিডিয়ো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন অভিভাবকের এহেন আচরণ বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করেছে।

জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ফার্মপাড়ার সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে ঢুকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে অফিসকক্ষে বসা অবস্থায় প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। এ সময় কয়েকজন তাকে নিবৃত্ত করে বাইরে বের করে নিয়ে যান।

Model Hospital

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য (৯) তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে স্কুলের সমাবেশ চলাকালে এক ছাত্রের সঙ্গে কথা বলাবলি করছিল। এ কারণে তাকে শাসন করতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক তার গালে একটি চড় মারেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার পিতা শুভ বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন।

এ ব্যাপারে একাধিকবার কল করা হলেও অভিযুক্ত অভিভাবক শুভ ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম বলেন, আমি একজন শিক্ষক হয়ে আদর যেমন করি একটু শাসনও করতে হয়। এ কারণেই আলতো করে একটা চড় মেরেছিলাম। এ কারণে একজন অভিভাবক আমার অফিসে ঢুকে আমার গায়ে হাত তুলবেন এটা আমার ধারণা ছিল না। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে যেতে আমি নিরাপত্তাহীন মনে করছি। আবারও আমার ওপর হামলা হতে পারে বলে আমি আশঙ্কা করছি।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোয়াইব হোসেন বলেন, এ ধরনের আচরণ আমরা কোনো অভিভাবকের কাছ থেকে আশা করি না। এমন হলে আমরা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানুষ করব কিভাবে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষকের পাশে থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাই।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল বলেন, ঘটনাটি নিন্দনীয়। অভিভাবকের কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি শিক্ষা অফিসকে জানাতে পারতেন; কিন্তু তিনি তা না করে প্রধান শিক্ষককে মারধর করবেন এটা অন্যায়। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।