শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে দুর্যোগ মোকাবেলা ও প্রস্তুতি কমিটির সভা 

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:১০ পিএম
শাহরাস্তিতে দুর্যোগ মোকাবেলা ও প্রস্তুতি কমিটির সভা 
সাম্প্রতিক অতিবর্ষণ ও উজানের ঢলে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলার সকল আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু, মেডিকেল টিম গঠন এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সক্রিয় রাখাসহ ১৩ দফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার  (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন। সভা পরিচালনা করেন কমিটির সদস্য-সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অ.দা.) সোহেল রানা পাপ্পু।
সভার শুরুতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা পাপ্পু সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, “উজানের পানি নেমে আসা এবং অতিবর্ষণের কারণে উপজেলায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্র, ত্রাণ ও জরুরি সেবার সব ধরনের প্রস্তুতি এখন থেকেই সম্পন্ন করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, “সম্ভাব্য দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ, জেলে ও নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের আগাম সতর্ক করতে হবে। নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে। উপজেলা ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সার্বক্ষণিক মাঠে প্রস্তুত থাকবে।”
সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে, উপজেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র খোলা ও ব্যবহার উপযোগী রাখা, সেখানে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, শিশু খাদ্য, ওআরএস ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মজুদ নিশ্চিত করা, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু রাখা, স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে মেডিকেল টিম গঠন, গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা, বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের গাছপালা অপসারণ, নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিতকরণ এবং মসজিদের মাইকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবদের দুর্যোগকালীন সময়ে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ  আকলিমা জাহান,শাহরাস্তি  মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান,সভায় উপজেলা প্রকৌশলী মইনুল হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মো. সাজ্জাদুর রহমান , প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মাকসুদ আলম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল সাদাফ , উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্যানেল চেয়ারম্যান, ইউপি সচিব এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’