শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ধ্বংসের পথে কচুয়া পৌরসভার কোটি টাকার যানবাহন!

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম
রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ধ্বংসের পথে কচুয়া পৌরসভার কোটি টাকার যানবাহন!

কচুয়ায় পৌরসভার কোটি টাকার গাড়িগুলো খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে, দেখার মত কেউ নেই।

খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে কচুয়া পৌরসভার কোটি টাকার গাড়িগুলো। দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকায় গাড়িগুলোর দেখার মত কেউ নেই। রক্ষণাবেক্ষণ অভাবে গাড়িগুলোর অধিকাংশ যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে গেছে। এগুলো দেখার মতো কোন কর্তৃপক্ষ নেই।  প্রথম শ্রেণির পৌর কর্তৃপক্ষের এমন কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কচুয়া উপজেলা ও পৌরসভার সচেতন মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অবহেলায় অচল হয়েছে ময়লা ও আবর্জনা বহনকারী একটি ট্রাক। আরেকটি ট্রাক গাড়ি কিছুটা সচল থাকলো, মেরামতের অভাবে পড়ে রয়েছে । তিনটি রোলার মেশিন যার প্রতিটির মূল্য ৩০ লাখ করে প্রায় ৯০ লাখ টাকা, একটি রোলার গাড়ির সচল রয়েছে। বাকি দুইটি রোলার নষ্ট হয়ে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। পুরানো ব্যান্ডের একটি দামি জিপ গাড়ি যার মূল্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা, ওই গাড়িটি  অকেজো পরে রয়েছে। পৌরসভায় সরকার কর্তৃক কালো ব্যান্ডের কোটি টাকার গাড়িটি মেরামতের অভাবে অচল হয়ে পরে রয়েছে।
এতে প্রায়  ২ কোটি টাকার কয়েকটি গাড়ি পৌরসভার কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণ অভাবে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার ভিতরে খোলা আকাশের নিচে দুটি রোলার, একটি ট্রাক নষ্ট হয়ে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। একটি পুরানো ব্যান্ডের কালো জিপ গাড়ি, বড় ট্রাক, একটি রোলার ও মেয়রের চলাচলের গাড়িটি গ্যারেজে পড়ে রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও ধুলো বালি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছে, গত কয়েক বছর ধরে এ গাড়িগুলো একই স্থানে পড়ে আছে। মেয়রের যাতায়াতের গাড়িটি  ও একটি রোলার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অন্যান্য গাড়িগুলো কখনও একদিনের জন্য পৌরসভার কাজে ব্যবহার হতে দেখেনি কেউ। এছাড়াও গাড়ীগুলো কি কাজে ব্যবহার করা হয় তাও বলতে পারব না।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক জানান, তবে আমি এই পৌরসভায় কিছুদিন আগে যোগদান করেছি। এই গাড়ির বিষয়গুলো আমার জানা নেই। এই গাড়িগুলো বিষয় জানতে পারলে, আমি বলতে পারবো।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।